নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিএলওদের জন্য পঞ্চায়েতে সমিতির নির্দেশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেগঙ্গায়। পঞ্চায়েত সমিতির লেটারহেডে সভাপতি ও শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বিএলও হিসেবে কাজ করা শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন, সঠিক সময়ে তাঁদের স্কুলে আসতে হবে। এসআইআরের হিয়ারিংয়ের জন্য দেরি করা যাবে না। বিষয়টি জানাজানি হতেই বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে, এসআইআর চলাকালীন এই ধরনের নির্দেশ দেওয়ার অধিকার পঞ্চায়েত সমিতির আছে তো?
দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল দাস ও শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ এনামুল হকের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দেগঙ্গার সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে যাঁরা বিএলওর কাজে যুক্ত, ১২ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হবে। এসআইআর সংক্রান্ত কোনো কাজ থাকলে তা করতে হবে স্কুল ছুটির পর। এরপরও কেউ স্কুলে না আসতে পারলে তিনি যে বিএলও’র কাজে ‘অন ডিউটি’ ছিলেন, তার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকের চিঠি দেখাতে হবে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির এমন নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলি। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তরুণকান্তি ঘোষ বলেন, ‘এদের অধিকার কতটুকু, সেটাই জানে না। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বা শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ, কেউই এমন নির্দেশ জারি করতে পারেন না।’ সিপিএমের দেগঙ্গা ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক কাজ। অবিলম্বে এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা দরকার।’ শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের যুক্তি, ‘এসআইআরের কাজের জন্য বিভিন্ন স্কুলে পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই আমরা বিএলওদের জানিয়েছি, যা কাজ করতে হবে স্কুল ছুটির পর। দেগঙ্গার বিডিও ফাহিম আলম বলেন, ‘বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছেন। ওঁদের নির্দেশ দেবে কমিশন।’ নিজস্ব চিত্র