সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের পর পুজো মণ্ডপে নিয়ে আসা হয় নবদ্বীপের প্রাচীন বাবা বুড়ো শিবকে। বুড়ো শিবের পুজোর পরই শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। নবদ্বীপের শ্রীমন্দির ক্লাবের পরিচালনায় আগমেশ্বরীপাড়ার রেজিস্ট্রি অফিস মোড়ের দুর্গাপুজোয় এমনই প্রথা চলে আসছে।
পুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে কোনওদিন পুষ্পান্ন, কোনওদিন ফ্রায়েড রাইস বা খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রথা মেনে দশমীতে দেবীর ভোগে পান্তাভাত দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে কচুর শাক, ফুলুরি, চপ, বেগুনি সহ বিভিন্ন ভাজা। ১১তম বর্ষে একচালা ডাকের সাজের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।
শ্রীমন্দির ক্লাব ও পুজো কমিটির সম্পাদক সন্তোষ মল্লিক বলেন, লক্ষ্মীপুজোর দিন এলাকার ৫০টি বাড়িতে মাটির ঘট পৌঁছে দেওয়া হয়। সদস্যদের চাঁদার পাশাপাশি ওই ঘটে জমানো টাকাই আমাদের ভরসা। এলাকার মহিলারা সারাবছর ধরে ওই ঘটে টাকা জমান। চতুর্থীর থেকে সপ্তমীর দিন অবধি সেই ঘট নিয়ে মহিলারা পুজো মণ্ডপে হাজির হন। কোনও ঘটে ৫০০টাকা, কোনও ঘটে তিন-চারহাজার টাকা মেলে। আমরা সরকারি অনুদান পাইনি। তবে পুজোর আগে পুরসভার তরফে কয়েক হাজার টাকা দেওয়া হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী-এই তিনদিন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হয়। দশমীর রাতে শোভাযাত্রা করে স্থানীয় ফাঁসিতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। পুজো কমিটির সদস্য সুপ্রকাশ ঘোষাল, বিমলেন্দু ভৌমিকরা এখন পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
স্থানীয় বধূ সুস্মিতা মল্লিক ও মিতা নন্দী জানান, দুর্গামণ্ডপেই প্রতিমা তৈরি করা হয়। মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়, রিনা নন্দী, বন্দনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুক্লা মল্লিকের মতো এলাকার মহিলারা পুজোর জোগাড় করেন। স্থানীয় কাউন্সিলার অনুরাধা মণ্ডল নানাভাবে সহযোগিতা করেন।