নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্কুলের বন্ধু। সেই সুবাদে তরুণীর সঙ্গে কথা, একসঙ্গে আসা-যাওয়া। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধর্মতলার এক ব্যাঙ্কোয়েটে তরুণীকে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের জন্য চাপাচাপি করা হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় তরুণীর পরিবারকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে সোদপুর স্টেশনে তরুণী তাঁর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করছিলেন। সেই সময় অভিযুক্ত যুবকের বাবা ও দুই ভাই এসে তরুণী ও তাঁর মাকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। তখন তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোদপুরে। খড়দহ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের বাবা নাসিম আলম ও দুই ভাই সাকিব ইকবাল ও আসিফ ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ওই তরুণী খড়দহের একটি নামী আবাসনের বাসিন্দা। স্কুল জীবনে পড়তেন বারাকপুরের এয়ারফোর্স স্কুলে। ওই স্কুল সূত্রেই ওয়াজিদ ইকবালের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তাঁর। পরে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে কথা হত। তরুণীর দাবি, ওয়াজিদ তাঁর কাছে মাঝে মধ্যে টাকা ধার চাইত। পরে ফেরতও দিত। একদিন ধর্মতলায় ঘুরতে যাবে বলে। ধর্মতলায় যাওয়ার পর ওয়াজিদ তাঁকে একটি ব্যাঙ্কোয়েটে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে ৩০ লক্ষ টাকাও চায়। এমনকি, তাঁকে ধর্ম পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেয় ও বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। তরুণী তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। বুধবার তিনি মায়ের সঙ্গে সোদপুর স্টেশন লাগোয়া দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় ওয়াজিদের বাবা ও দুই ভাই তাঁদের হেনস্তা করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন চলে এসে অভিযুক্তদের আটকে রাখে। তৈরি হয় উত্তেজনা। এর মধ্যেই খড়দহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াজিদের খোঁজে
তল্লাশি চলছে।