নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘ট্রাভি’ অপারেশনের মাধ্যমে রোগীর হার্টব্লক ওপেন করল অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। পিজির পর এই প্রথম বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সফল অপারেশন করেছে। এর আগে উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গে এমন সাফল্য আসেনি। এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, কোনও কাটাছেঁড়া ছাড়াই রোগীর শরীরে স্টেন্ট বসানো হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ওপেন সার্জারি করতে হয়। তাতে অনেক সময় ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে ঝুঁকি কম। কিন্তু চিকিৎসকদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। অত্যাধুনিক টেকনোলজির সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অপারেশন ট্রান্স এ্যায়োটিক ভালভ ইমপ্ল্যান্টেশন বা ট্রাভি নামে পরিচিত। এ্যায়োটার মাধ্যমে বেলুন ঢুকিয়ে ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। ফিমোরাল আটারি দিয়ে তারের মাধ্যমে বেলুন নিয়ে যাওয়া হয়। এটা খুব জটিল অপারেশন। রাজ্যে এমন অপারেশন কম হয়েছে। ধীরে ধীরে অপারেশনের সংখ্যা বাড়তে থাকলে সমস্যা হবে না।
অনাময় হাসপাতালের সুপার শকুন্তলা সরকার বলেন, এধরনের অপারেশন করতে বাইরে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এক্ষেত্রে বিনামূল্যে অপারেশন করা হয়েছে। চিকিৎসক দীপঙ্কর ঘোষদস্তিদার বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অপারেশন চলে। রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
বীরভূমের নলহাটির বুজুং এলাকার বাসিন্দা ৭১বছর বয়সি রোগী অমিয়কুমার মণ্ডল বলেন, একটা ভালভ ব্লক ছিল। শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হতো। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আসি। অপারেশনের পর সুস্থ রয়েছি। চিকিৎসকদের জন্যই নতুন জীবন ফিরে পেলাম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হার্টের চিকিৎসায় অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নজর কেড়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, বীরভূম সহ বিভিন্ন জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসার জন্য আসছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রসেনজিৎ দাস বলেন, আগামী দিনে দক্ষিণবঙ্গের রোগীদের আর পিজি যাওয়ার দরকার হবে না। সেইভাবেই এই হাসপাতাল এগিয়ে যাচ্ছে। জেলার মুখস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এর আগেও জটিল অপারেশন করেছে। ট্রাভি অপারেশন করার ঝুঁকি এর আগে জেলার কোনও হাসপাতাল নেয়নি। অনাময় হাসপাতালের চিকিৎসকদের টিম সেই কাজ করে দেখিয়েছে। তবে এধরনের অপারেশন করা অনেক বেশি ঝক্কির। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কৃতিত্ব দিতেই হয়। রোগী অমিয়কুমার মণ্ডল বলেন, সরকারি হাসপাতালে এমন পরিষেবা পাব বলে ভাবতে পারিনি। নতুন ধরনের এই অপারেশন করা হবে শুনে প্রথমদিকে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু অপারেশনের পর ভয় কেটে গিয়েছে। শরীরে কোথাও কাটা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনে এধরনের অপারেশন আরও বেশি সংখ্যায় করা হবে। ঝক্কি থাকলেও রোগীরা উপকৃত হবেন। তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।-নিজস্ব চিত্র