নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: নৃশংস! প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে খুন। এরপর বুক চিরে তাঁর হৃদপিণ্ড-যকৃৎ বের করে ব্যাগে ভরে পাড়ায় ঘুরল স্বামী। শুধু তাই নয়, হাতে ঝোলানো রক্তমাখা ব্যাগ নিয়ে নিহত স্ত্রীর হৃদপিণ্ড, যকৃৎ দেখাতে পাড়াপ্রতিবেশীর বাড়ি বাড়ি গেল সে! শুক্রবার সকালে রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে ময়নাগুড়ির ব্যাঙকান্দিতে।
সাতসকালে ৫২ বছরের রমেশ রায়কে স্ত্রীর ‘কলিজা’ সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যাগে নিয়ে ঘুরতে দেখে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয় এলাকার বাসিন্দাদের। উত্তেজনা ছড়াতেই সবার চোখে ধুলো দিয়ে আচমকা ‘উধাও’ হয়ে যায় ওই প্রৌঢ়। খবর পেয়ে পুলিস এসে দেখে, রক্তে ভেসে যাচ্ছে রমেশের ঘর। মেঝেয় পড়ে তার স্ত্রী দিপালী রায়ের (৪৫) নিথর দেহ। তাঁর বুক-পেট কেটে খুবলে বের করে নেওয়া হয়েছে শরীরের বেশকিছু অংশ। এরপরই ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষের নেতৃত্বে হন্যে হয়ে অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজ শুরু করে পুলিস। ঘণ্টা দু’য়েক তন্নতন্ন করে খোঁজার পর ময়নাগুড়ি থানার সিঙিমারির একটি বাঁশঝাড়ে হদিশ মেলে অভিযুক্তের। পুলিস গিয়ে দেখে, তখনও ওই প্রৌঢ়ের হাতে ঝোলানো ব্যাগে স্ত্রীর দেহাংশ রয়েছে। ব্যাগটি উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। তার কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মর্গে দেহটির ময়নাতদন্ত হয় এদিন। তবে কী কারণে রমেশ এমন কাণ্ড ঘটাল, তা নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশা রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি,মানসিকভাবে সুস্থ নয় ওই প্রৌঢ়। সম্ভবত সেকারণেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে সে। যদিও কৌশিকী অমাবস্যার দিন এমন চাঞ্চল্যকর কাণ্ড ঘটানোয় ওই প্রৌঢ় কোনও তান্ত্রিকের খপ্পরে পড়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। জলপাইগুড়ির পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একচিলতে ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকত রমেশ। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছে। রমেশ সেই অর্থে কোনও কাজ করত না। কখনও বাড়ির বাগানের কলা, নদীতে ধরা মাছ বিক্রি করে যা টাকা হতো, তা দিয়ে কোনওমতে দিন চলত। মাঝেমধ্যে ছেলেও টাকা পাঠাত। ঘটনার তদন্তে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে পুলিস সূত্রে খবর। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্বস্তিশোভন চৌধুরী বলেন,শুনে মনে হচ্ছে ওই প্রৌঢ় সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের রোগীদের মধ্যে মুহূর্তে কাউকে ভালো লাগতে পারে, পরক্ষণেই তার উপর জন্মাতে পারে ঘৃণা। -নিজস্ব চিত্র