মুম্বই: এক মাসের ব্যবধানে ফের শিল্পপতি অনিল আম্বানির বাড়ি ও সংস্থার অফিসে তল্লাশি। ইডির পর এবার সিবিআই। শনিবার তাঁর দু’টি ঠিকানায় তল্লাশি চালালেন তদন্তকারীরা। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
গত জুন মাসে অনিল আম্বানিকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দিয়ে সিবিআইয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিল অনিলের সংস্থা। সেই ঋণ শোধ না করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। বেশ কয়েকজন ব্যাঙ্ক আধিকারিকও এর নেপথ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ। এসবিআই-এর অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনিল, বেশ কয়েকজন ব্যাঙ্ক কর্মী ও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। শনিবার মুম্বইয়ের কাফ প্যারেডে ‘সি উইন্ড’ আবাসন ও সংস্থার অফিসে তল্লাশি চলে। সকাল ৭টা নাগাদ সাত থেকে আটজন আধিকারিক সেখানে পৌঁছন। বাসভবনে ছিলেন অনিল আম্বানি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা ষড়যন্ত্র করে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিল। এরপর ঋণের টাকা শোধ না করে তা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। কাগজে কলমে দেখানো হয়েছিল ভুয়ো লেনদেন। এমনকী এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে টাকা পাঠিয়েছিল সংস্থা। একঝাঁক বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের এন্ট্রি রয়েছে শিল্পপতির কোম্পানির অডিট বুকে। অথচ সেসব অ্যাকাউন্টে লেনদেনের কোনও কাগজপত্র নেই!
২০২০ সালের নভেম্বরে অনিল ও তাঁর সংস্থাকে ‘প্রতারক’ ঘোষণা করেছিল এসবিআই। তবে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৪ সালের আরবিআই নির্দেশিকা অনুযায়ী নতুন তদন্তের পর ফের ‘প্রতারক’ তকমা দেওয়া হয়। গত শুক্রবার লোকসভায় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই খবর জানান। অনিলের সংস্থার থেকে সুদসহ মোট ঋণ ও ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা পাবে এসবিআই।