Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্গাপুজোর পর চন্দনগরের জগদ্ধাত্রীও ‘হেরিটেজ’? গবেষণার কাজ শুরু করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বন দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের অংশ।

দুর্গাপুজোর পর চন্দনগরের জগদ্ধাত্রীও ‘হেরিটেজ’? গবেষণার কাজ শুরু করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বন দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের অংশ। পাশাপাশি চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকেও তার অংশ করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সরকারের স্কিম ফর প্রোমোশন অব অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ কোলাবরেশন বা স্পার্ক নামে একটি প্রকল্পের অংশ হয়েছে। তাতেই চন্দননগরের ঐতিহ্য, পুজোর ইতিহাস নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপিকা নীলাঞ্জনা গুপ্ত এবং রাহি সোরেনের পাশাপাশি লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইয়ান ম্যাগেডরাও রয়েছেন। প্রধান গবেষক হিসেবে রয়েছেন নীলাঞ্জনা গুপ্ত এবং সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক হয়। নীলাঞ্জনা গুপ্ত বলেন, এখনও চন্দননগরে বারোয়ারি পুজোর ব্যাপারটা রয়েছে যা কলকাতার দুর্গাপুজো থেকে চলে গিয়েছে। তবে, যাঁরা শোলার কাজ করেন বা অন্যান্যভাবে জড়িত, সেই মানুষগুলির রুটি-রুজি আগে নিশ্চিত করতে হবে। নাহলে ঐতিহ্য রক্ষা করা যাবে না। ঐতিহ্য রক্ষা মানে শুধু কিছু ভবনের সংরক্ষণ নয়। মানুষকেও রক্ষা করা। এটাই বলতে চেয়েছি আলোচনায়। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্যান্য ফ্যাক্টর তো আছেই। সেগুলিও কুপ্রভাব ফেলছে ঐতিহ্যে। যেমন, এ রাজ্যে উপযুক্ত জলাভূমির অভাবে শোলা চাষ একেবারেই কমে গিয়েছে। ডাকের সাজের শোলার জন্য আমরা বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া, আমাদের রাজ্যে তো বটেই, দেশেও ঐতিহ্য রক্ষা নিয়ে সঠিক নীতি নেই। সেটাও সরকারকে ভাবতে হবে। তবে, এ রাজ্যের মানুষকে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রাথমিক পাঠ দিতে, তা রক্ষা করার পন্থা নিয়ে যাদবপুরে একটি সার্টিফিকেট কোর্স চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন নির্মাণশৈলী বিশেষজ্ঞ বাস্তুবিদ সৌমেনবাবু চন্দননগরেরই বাসিন্দা। তাই তাঁর বাড়তি আগ্রহও রয়েছে। তবে, দুর্গাপুজোর পর্যায়ে জগদ্ধাত্রী পুজো তথা চন্দননগরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে গেলে সমস্ত বাসিন্দা, সরকার—সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে তাঁরা মনে করছেন। ইউনেস্কোর গাইডলাইনের পাশাপাশি স্বকীয়তা তুলে ধরতে পারলে, সাফল্য আসবেই বলেই মনে করছেন এর সঙ্গে যুক্ত সকলে।
সমান্তরালভাবে যাদবপুর আরও একটি কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। সেটা হল রাজ্যের চারটি প্রান্তিক ভাষা নেপালি, লেপচা, বোড়ো এবং কুড়মালিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ। স্পার্ক প্রজেক্টের সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ট্রান্সলেসন অব ইন্ডিয়ান লিচারেচার্স বা সেন্টিল এই চারটি ভাষাকে অনুবাদের কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক ভাষাগুলির পাশাপাশি সেই ভাষাভাষী মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে সংখ্যাগুরু গোষ্ঠীর মানুষের পরিচয় ঘটবে। একটি অডিও ভিজ্যুয়াল সংরক্ষণশালাও তৈরি হচ্ছে এই কাজ নিয়ে। ডিসেম্বরের মধ্যে এই চারটি ভাষার ইংরেজি অনুবাদের কাজ শেষ হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ