Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ড্রোনের পর সিসিটিভি, হাতির গতিবিধি রুখতে কোমর বেঁধে ময়দানে বনদপ্তর

পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ বনভূমিজুড়ে অবাধ বিচরণ গজরাজের। মাঝেমধ্যে ঝাড়খণ্ড থেকেও হাতি প্রবেশ করছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

ড্রোনের পর সিসিটিভি, হাতির গতিবিধি রুখতে কোমর বেঁধে ময়দানে বনদপ্তর
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝালদা: পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ বনভূমিজুড়ে অবাধ বিচরণ গজরাজের। মাঝেমধ্যে ঝাড়খণ্ড থেকেও হাতি প্রবেশ করছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু, এই রাজকীয় বিচরণ অনেক সময়ই রূপ নিচ্ছে মারণ-লীলায়। বন্য আক্রোশের সামনে অকালেই ঝরে যাচ্ছে একের পর এক তাজা প্রাণ। তাই ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে কড়া নজরদারি শুরু করেছে বনদপ্তর। ইতিমধ্যেই বাঘমুণ্ডি এলাকাজুড়ে উড়ছে একটি ড্রোন। রয়েছে কন্ট্রোল রুম। তবে কেবল সাময়িক সতর্কতা নয়, এবার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথেই হাঁটতে চলেছে বনদপ্তর।

Advertisement

বনদপ্তর সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করে ২০ থেকে ২৫টি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ পরিষেবার অভাব। তাই বিকল্প পথ হিসেবে যেখানে সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেখানে সৌরশক্তি চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা করছে দপ্তর। পাশাপাশি, বিদ্যুৎহীন এলাকাগুলিতে দ্রুত বৈদ্যুতিক লাইন পৌঁছে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে পুরুলিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের রিজিওনাল ম্যানেজারকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছে বনদপ্তর।
জঙ্গলের গভীরতার কারণে সাধারণ ড্রোনে অনেক সময় গাছের আড়ালে থাকা হাতির সঠিক অবস্থান ধরা পড়ে না। সেই প্রতিকূলতা কাটাতে এবার থার্মাল ড্রোন ক্যামেরা আনারও প্রচেষ্টা চলছে। এছাড়া সুবর্ণরেখা নদী লাগোয়া রাঙামাটি, মারচা, সবিডি, আটনা সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলি সরাসরি যুক্ত থাকবে রেঞ্জ অফিসারদের মোবাইলের সঙ্গে। হাতির গতিবিধি ক্যামেরায় ধরা পড়লেই রেঞ্জ অফিসাররা দ্রুত স্থানীয় গ্রাম প্রধান ও সদস্যদের সতর্ক করবেন। ফলে লোকালয়ে হাতি ঢোকার আগেই গ্রামবাসীরা সতর্ক হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকে আসা একটি দলছুট হাতির হানায় প্রাণ হারান বাঘমুণ্ডির বৃদ্ধ গুরুচরণ সিং মুড়া(৭৬)। কেবল তিনিই নন, দলমা রেঞ্জ থেকে পুরুলিয়ায় প্রবেশ করা হাতির তাণ্ডবে গত কয়েক মাসে প্রাণ গিয়েছে আরও কয়েকজনের। মূলত এই প্রাণহানি রুখতেই অযোধ্যা, ঝালদা, বাঘমুণ্ডি ও মাঠা রেঞ্জের বিভিন্ন বনপথে সিসিটিভি বসিয়ে নজরদারি নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে প্রশাসন।
পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, মৃত গুরুচরণ সিং মুড়ার বাড়িতে আমি নিজে গিয়েছিলাম। সংলগ্ন এলাকাগুলিও খতিয়ে দেখে এসেছি। হাতির গতিবিধি বুঝতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা আমরা ইতিমধ্যেই কার্যকর করতে শুরু করেছি। এই ব্যবস্থা চালু হলে বড় সুবিধা হবে এই যে, আমরা রিয়েল টাইমে হাতির অবস্থান জানতে পারব। এর ফলে তৎক্ষণাৎ খবর পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং গ্রামের মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ