সংবাদদাতা, লালবাগ: লালবাগ শহরে হোটেলের পর এবার বাড়িতে মধুচক্রের আসরের হদিশ পেল পুলিস। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় লালবাগের গোয়ালটুলি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিস। সেখান থেকে পুলিস চার মহিলাকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি মধুচক্র চালানোর অভিযোগে বাড়ির মালিক ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার ধৃতদের লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
জনবহুল এলাকায় বাড়িতে মহিলাদের এনে মধুচক্রের আসর চালানোর খবর জানাজানি হতেই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, খবর ছিল মুর্শিদাবাদ পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালটুলি এলাকায় শম্ভু মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে মহিলাদের নিয়ে এসে দেহ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে চারজন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বাড়ির মালিক সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছরের মধ্যে মুর্শিদাবাদ শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে হোটেল ও লজ। দিন দিন এই শহরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সুযোগে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অবৈধভাবে হোটেলগুলি গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখন এখানকার বেশিরভাগ হোটেলেই নিয়মিত মধুচক্রের আসর বসে। এতে মোটা টাকা রোজগারও হচ্ছে অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীদের। অনেক সময় দুষ্কৃতীরাও এসব হোটেলে থাকছে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাইরে থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা হোটেল ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। সেই জন্য শহরের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সুনাম ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয় পুলিস। গত দু’মাস ধরে ১৫টি হোটেলে অভিযান চালিয়ে পুলিস ২৩ জন মহিলাকে উদ্ধার এবং দুই হোটেল মালিক, ম্যানেজার সহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হোটেলে পুলিসের লাগাতার অভিযানের জেরে অসাধু কারবারিরা এখন বাড়িতেই মধুচক্রের আসর বসাচ্ছে। মুর্শিদাবাদ শহরের জনবহুল এলাকায় মধুচক্রের আসরের হদিশ পাওয়ায় প্রশাসনের কর্তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। স্টেশন রোডের বাসিন্দা মিলন সূত্রধর বলেন, শহরের বিভিন্ন বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই মধুচক্রের আসর চলছে। পুলিস প্রশাসন একটু সজাগ হলেই সবটা জানতে পারবে।
নশিপুরের বাসিন্দা মিজানুর শেখ বলেন, বিনা পরিশ্রমে দৈনিক ভালো রোজগারের আশায় অনেকেই বাড়িতে মধুচক্রের আসর বসাচ্ছে। পুলিসের ঝক্কি এড়াতে অনেকেই ওই সমস্ত বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। সিটি মুর্শিদাবাদ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি খুব উদ্বেগের। আশা করি পুলিস ও প্রশাসন শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেবে।