Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মাত্র ২০ টাকা ঘুষের দায়ে জেল! ২২ বছর আইনি লড়াই, নির্দোষ প্রমাণের পরের দিনই মৃত্যু হল প্রাক্তন পুলিশকর্মীর

একেই বলে ভাগ্যের পরিহাস! মাত্র ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল গুজরাতের পুলিশকর্মী বাবুভাই প্রজাপতির বিরুদ্ধে।

মাত্র ২০ টাকা ঘুষের দায়ে জেল! ২২ বছর আইনি লড়াই, নির্দোষ প্রমাণের পরের দিনই মৃত্যু হল প্রাক্তন পুলিশকর্মীর
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমেদাবাদ: একেই বলে ভাগ্যের পরিহাস! মাত্র ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল গুজরাতের পুলিশকর্মী বাবুভাই প্রজাপতির বিরুদ্ধে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে ৩০ বছর আইনি লড়াই চালিয়েছেন তিনি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। কিন্তু, বদনাম ঘুচলেও আইনি লড়াইয়ে ক্লান্ত শরীর আর সঙ্গ দিল না। পরের দিনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রাক্তন ওই পুলিশকর্মী। নিয়তি বোধহয় আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বাবুভাই! আদালত থেকে স্বস্তি পাওয়ার পর বলেছিলেন, ‘বড়ো বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছিলাম। অবশেষে তা ঘাড় থেকে নামল। এবার ভগবান আমাকে নিয়ে গেলেও কোনও দুঃখ নেই।’ 

Advertisement

১৯৯৬ সাল। আমেদাবাদে পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত প্রজাপতির বিরুদ্ধে ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের হয়। পরের বছর দায়রা আদালতে জমা পড়ে চার্জশিট। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর প্রজাপতিকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। চারবছরের জেল ও ৩ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশ দেন বিচারক। এই রায়ের বিরুদ্ধে গুজরাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জেলবন্দি প্রজাপতি। সেখানে ২২ বছর মামলা আটকে ছিল। তাঁর আইনজীবী নীতিন গান্ধী কোর্টে জানান, সন্দেহের বশেই গোটা মামলা সাজানো হয়েছিল। অবশেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রায় দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতিরা জানান, প্রজাপতি নির্দোষ। দীর্ঘ ৩০ বছরের আইনি লড়াই জিতে আবেগঘন হয়ে পড়েন তিনি। তারপর আইনজীবীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। আফসোসের সুরে প্রজাপতির আইনজীবীও বলছিলেন, গতকাল অফিসে দেখা করতে এসেছিলেন। খুব আনন্দে ছিলেন। সরকারি চাকরির কোনও সুযোগ সুবিধাই তিনি পাননি। সেগুলির জন্য আবেদন করারও পরামর্শ দিই। কিন্তু, ফোন করে তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর জানতে পারি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ