নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিচারকের সই নকল করে দেদার জাল হচ্ছে এফিডেভিট। যার সঙ্গে আদালতের আইনজীবী ও মুহুরিদের একাংশ যুক্ত বলে অভিযোগ। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসতেই বিচারক হলফনামা দেওয়ার কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন। এনিয়ে সিউড়ি জেলা আদালতে শোরগোল পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিচারক বার অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়েছেন। শুক্রবার এনিয়ে বৈঠকেও বসেন বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা।
সিউড়ি জেলা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শংসাপত্র(ইডব্লুএস) থেকে নাম-পদবি পরিবর্তন, নিজেদের এক ও অভিন্ন বলে ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের হলফনামার প্রয়োজন হয়। সিউড়ি আদালতে হামফনামার জন্য প্রতিদিন শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। প্রতিদিন হলফনামা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দেওয়া আছে আদালতের। স্বাভাবিকভাবেই হলফনামার চাহিদা বাড়তে থাকে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অসাধু চক্র। মোটা টাকার বিনিময়ে বিচারকের সই নকল করে সেই হলফনামা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সেই বেনিয়ম নজরে আসে সিউড়ি আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের। এরপরই তিনি হলফনামা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন। গত ১১ নভেম্বর সিজেএম(চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) বিষয়টি সিউড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি পাঠিয়ে অবগত করেন।
আদালতের সরকারি আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এই অসাধু কাজে আদালতেরই আইনজীবী ও তাঁর সহযোগীদের কেউ কেউ জড়িত বলে বিচারক জানতে পেরেছেন। বর্তমানে হলফনামা দেওয়া বন্ধ আছে। তবে, এর ফলে অসংখ্য মানুষ বিপাকে পড়ছে। যাঁদের বিশেষভাবে হলফনামার প্রয়োজন, তাঁরাও বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুক্রবার দেখা গেল, আদালতে বহু মানুষ হলফনামার জন্য এসে ঘুরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা, যাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কিংবা চাকরির পরীক্ষার জন্য ইডব্লুএস শংসাপত্রের প্রয়োজন, তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। আদালতে এমন এক আইনজীবী রয়েছেন, যাঁর শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন হবে শীঘ্রই। কিন্তু, তাঁর সচিত্র পরিচয়পত্রে নামের বানানে ভুল থাকায় হলফনামার প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সকলেরই দাবি, অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে হলফনামা দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের চালু করা হোক।
এনিয়ে শুক্রবার দুপুরে বৈঠকে বসে বার অ্যাসোসিয়েশন। বৈঠক সূত্রের খবর, আইনজীবীরা এই ঘটনার প্রতিবাদের পাশাপাশি বিচারকের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। সিউড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আমরা কোনওভাবেই আপোস করব না। যারা এই জাল কারবারের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এটা আমরাও চাই। মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।