Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আঠারো বছর উত্তীর্ণ অন্তঃসত্ত্বার ঠাঁই নাবালিকাদের হোমে, বিতর্ক

আঠারো বছর উত্তীর্ণ অন্তঃসত্ত্বার ঠাঁই নাবালিকাদের হোমে, বিতর্ক
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রেমিকের সঙ্গে পালানো ১৮ বছর উত্তীর্ণ অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে রাখা হল নাবালিকাদের জন্য নির্দিষ্ট হোমে। ভূপতিনগরের ওই তরুণীকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই পুলিস ও সিডব্লুসি(চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি) একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছে। গত ৮মে ভূপতিনগর থানার পদ্মতামলি গ্রামের ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হলেও ১৪ তারিখ পর্যন্ত কোর্টে জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয়নি। গোটা ঘটনায় রিপোর্ট তলব করে কাঁথি এসিজেএম কোর্ট। কোর্ট এনিয়ে কড়া হতেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি পাঁউশির হোম থেকে ওই তরুণীকে জবানবন্দির জন্য আদালতে পেশ করা হয়।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আগস্ট মাসে ভূপতিনগর থানার পদ্মতামলি গ্রামের ১৭ বছরের এক নাবালিকা ভগবানপুর থানার দেউলবাড় গ্রামের বাপি ঘোড়াই নামে এক যুবকের সঙ্গে চলে যায়। ওই নাবালিকার বাবা ভূপতিনগর থানায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৮মে তদন্তকারী অফিসার বিমলেন্দু দাস অভিযোগ দায়ের হওয়ার ন’মাস পর ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু, এই মুহূর্তে তাঁর বয়স ১৮ বছর এক মাস ১৩ দিন। অর্থাৎ তিনি সাবালিকা। এর মধ্যে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। পুলিস বাপি ঘোড়াইকে গ্রেপ্তার করেছে। 
উদ্ধারের পর গত ৮মে সন্ধ্যায় ওই অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে পাঁউশির হোমে পাঠানো হয়। সাধারণত ওই হোমে ১৮ বছরের কম বয়সিদের রাখা হয়। সিডব্লুসি কেন তাঁকে শিশুদের হোমে পাঠাল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওই তরুণীর বাবা এবং আইনজীবীর পক্ষ থেকেও বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। তাছাড়া, উদ্ধারের পর ছ’দিন কেটে গেলেও কেন আদালতে বয়ান নথিভুক্ত করতে পাঠানো হয়নি তানিয়ে কোর্ট পুলিসের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়।
সিডব্লুসির অধীনে চলা হোমে শুধুমাত্র ১৮ বছরের কম বয়সীদের রাখা হয়। পুলিস বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপদ কাস্টডির জন্য সিডব্লুসিকে চিঠি দেয়। তাদের পক্ষ থেকে হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য আলাদা হোম রয়েছে। সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীন হোমে পাঠানো হয়। মামলার সরকারি আইনজীবী অরুণ সাউ বলেন, উদ্ধারের সাত দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার ওই তরুণীকে জবানবন্দির জন্য কোর্টে আনা হয়েছিল।
পূর্ব মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন জীবনানন্দ দাস বলেন, বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর। উদ্ধারের পর তাঁর বয়স এখন ১৮ বছর এক মাস। পুলিস তরুণী অবস্থায় উদ্ধারের পর হোমে রাখার জন্য আমাদের চিঠি দেয়। আমরা তখন পাঁউশির হোমে পাঠাই। ওই তরুণী এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর সেফ কাস্টডির জন্য পুলিস আমাদের দ্বারস্থ হওয়ায় আমরা তাঁকে শিশুদের হোমে পাঠিয়েছি। তাছাড়া পুলিস তাঁর বয়স ১৭ বছর বলে আমাদের জানিয়েছিল।
ভূপতিনগর থানার ওসি বলেন, ১৮ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে কাউকে সিডব্লুসি-র অধীনে হোমে রাখা যায় না। আমরা ওই তরুণীর সেফ কাস্টডির জন্য সিডব্লুসিকে চিঠি দিই। তারপর ওরা তাঁকে শিশুদের হোমে পাঠিয়ে দেয়।  চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি কোর্টে যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে মেয়েটির বয়স ১৮ বছর  বলে  উল্লেখ আছে। সুতরাং মেয়েটি সাবালিকা সেটি ওরা জানত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ