Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাবারের লোভ দেখিয়ে কিশোরীদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, দাসপুরে ধৃত প্রৌঢ়

নাবালিকাদের নিজের লালসার শিকার করার অভিযোগ উঠল এক প্রৌঢ় দোকানদারের বিরুদ্ধে।

খাবারের লোভ দেখিয়ে কিশোরীদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, দাসপুরে ধৃত প্রৌঢ়
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: নাবালিকাদের নিজের লালসার শিকার করার অভিযোগ উঠল এক প্রৌঢ় দোকানদারের বিরুদ্ধে। দাসপুর থানার রাধাকান্তপুর এলাকার বহু নাবালিকা স্কুল ছাত্রী ওই প্রৌঢ় দোকানদারের  পাশবিক লালসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে সে। অভিযোগ, চিপস বা কুড়কুড়ের লোভ দেখিয়ে দিনের পর দিন একাধিক নাবালিকার শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণ করত সে। শুধু তাই নয়, সেই ঘটনার ভিডিয়ো তুলে অন্যকে বিক্রি করে মোটা টাকা আয় করত। অভিযুক্তের নাম বসুদেব মাইতি। রাধাকান্তপুর উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তার একটি ছোট খাবারের দোকান রয়েছে। সেই দোকানের আড়ালেই চলত এই পৈশাচিক কারবার। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘাটাল মহকুমার পুলিশ আধিকারিক নীলেশ শ্রীকান্ত গাইকোয়াড় বলেন, রাধাকান্তপুরের ঘটনায় এক নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বসুদেব মাইতি নামে বছর পঞ্চাশের এক প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ওই প্রৌঢ় ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতর ডেকে নিত। সেখানে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও তুলে রাখত সে। তারপর ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন মুখ বন্ধ রাখত কিশোরীদের। ভিডিয়োগুলি চড়া দামে অন্যত্র বিক্রিও করত। দিন কয়েক আগে আশিস নামের পরিচিত একজনকে কিছু ভিডিয়ো পাঠাতে গিয়ে বসুদেব ভুলবশত গ্রামেরই অন্য এক আশিসের মোবাইলে তা পাঠিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার বাসিন্দা তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক কাজল সামন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার বীভৎসতা সামনে আসার পর স্থানীয় মাতব্বররা সালিশি সভা বসিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জেনেছি। সব চাইতে খারাপ লাগছে, সেই মিটিংয়ে আমাদের দলেরই কয়েক জন জনপ্রতিনিধি, রাধাকান্তপুর হাইস্কুলের শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। আমি বিষয়টি জানতে পারার পরই এক নির্যাতিতা নাবালিকার অভিভাবককে দিয়ে থানায় অভিযোগ করানোর ব্যবস্থা করি। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের জেরায় বসুদেব স্বীকার করেছে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রীদের নানা খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে সে কুকীর্তি করত। পরে দেখার জন্য সেই ভিডিয়ো তুলে রাখত। সে কোনো ভিডিয়োই বিক্রি করেনি। কিন্তু কয়েকদিন আগে অন্য একজনকে মোবাইলের গ্যালারি থেকে একটি নথি পাঠাতে গিয়ে কয়েকটি ভিডিয়ো চলে যায়। তার ফলেই জানাজানি হয়েছে। 
বসুদেবের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), পকসো  এবং তথ্যপ্রযুক্তি বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার তাকে ঘাটালের বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যেই স্কুলের সামনে বসুদেবের দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের দাবি, সমাজের এই বিষধরদের যেন কঠিনতম শাস্তি দেওয়া হয়। ছোটদের শৈশব রক্ষায় অভিভাবকদের পাশাপাশি প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত সংবাদ