সংবাদদাতা, হলদিয়া: মাত্র এক নম্বরের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকা থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। অসম্ভব জেদ ও পরিশ্রমে এবার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন মহিষাদলের অদ্রিজা জানা। ৪৮৯নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধা তালিকায় নবম হয়েছেন। মহিষাদলের তাজপুর হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা করে তিনি সফল হয়েছেন। অদ্রিজার বাবা গ্রামীণ চিকিৎসক। তার উপর দীর্ঘদিন অসুস্থ। ফলে পরিবারে আর্থিক সচ্ছ্বলতা নেই। তবে কষ্ট করে হলেও গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে অদ্রিজার।
তাজপুর হাইস্কুলের পাশেই অদ্রিজার বাড়ি। বুধবার দুপুর গড়াতেই ছোট একতলা বড়ির সামনে সংবাদ মাধ্যম ও ভিআইপিদের ভিড়। ততক্ষণে সবাই জেনে গিয়েছেন পূর্বপাড়ার গোপাল ডাক্তারের মেয়ে দারুণ রেজাল্ট করেছেন। মাধ্যমিকের পর থেকে এলাকার অনেকেই অবশ্য অদ্রিজাকে চেনেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট ঘোষণার সময় মেধা তালিকায় মেয়ের নাম শুনে বিশ্বাস করতে পারেননি অদ্রিজার বাবা গোপাল জানা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফিজিক্সের শিক্ষক অপূর্ব খাটুয়ার ফোন। আবেগাপ্লুত হয়ে ওই শিক্ষক গোপালবাবুকে জানান, অদ্রিজা মহিষাদলের গর্ব। খুশির খবরে তখন অদ্রিজার মা অনিতারানি জানার চোখে আনন্দাশ্রু। তিনি নিজে বিজ্ঞানের স্নাতক। তাই একাই মেয়েকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়েছেন। বিজ্ঞানের সমস্ত বিষয়ই অদ্রিজার খুব প্রিয়। অদ্রিজার মা বলেন, ও কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুঁদ হয়ে অঙ্ক কষত। আবার বায়োলজি বা ফিজিক্স ধরলে রাতদিন এক করে পড়ত। চ্যাপ্টার শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাওয়াদাওয়া সব বন্ধ। তার প্রতিফলন ঘটেছে মার্কশিটে। অদ্রিজা বাংলায় ৯৬, ইংরেজিতে ৯৮, বায়োলজিতে ৯৮, কেমিস্ট্রিতে ৯৪, ফিজিক্সে ৯৯, অঙ্কে ৯৮ পেয়েছেন।
অদ্রিজা বলেন, নির্দিষ্ট সময় মেপে পড়াশোনা করতাম না। তবে টিউশনি ছাড়া দিনে সাত-আট ঘণ্টা পড়তাম। পড়াশোনার জন্য টেক্সট বই খুব গুরুত্বপূর্ণ। বই পড়া এবং লেখার নিয়মিত অভ্যাসই আমাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। রাতে কোনও সময় কোনও চ্যাপ্টার বুঝতে সমস্যা হলে মায়ের মোবাইল ছিল ভরসা। ইউটিউবে অনলাইন ক্লাস দেখতাম। তবে সরাসরি ক্লাসের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে পাঠ নেওয়াই আমার বেশি পছন্দের, বলেন অদ্রিজা।
স্কুলের শিক্ষকরা অবসরে বাড়িতে ডেকে অদ্রিজাকে পড়িয়েছেন। পাকিস্তানে ভারতের এয়ার স্ট্রাইক প্রসঙ্গে অদ্রিজা বলেন, যুদ্ধ যে কোনওভাবেই হোক আটকাতে হবে। ঐতিহ্যবাহী ভারতের মানবতা মন্ত্রের জয় হোক। শান্তি বজায় থাকুক, এটাই আমার একমাত্র প্রার্থনা।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাঁর বাবা গোপালবাবু প্রায়শই অসুস্থ হয়ে পড়েন। খুবই কষ্ট করে মেয়েকে পড়াচ্ছেন। তাই ডাক্তারির জন্য ইচ্ছে থাকলেও স্পেশাল কোচিং দিতে পারেননি বলে আক্ষেপ করছিলেন গোপালবাবু। তিনি বলেন, মেয়ের ইচ্ছে ডাক্তার হওয়া। কিন্তু আমাদের সেই সামর্থ্য নেই।
অদ্রিজাকে শুভেচ্ছা জানালেন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী।-নিজস্ব চিত্র