নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: ‘বিতর্কিত’ পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের। রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামে ‘ইঁদুর-জ্বর’ ও জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের একাংশ ওই পোল্ট্রি ফার্মের বিরুদ্ধে সরব হন। ফার্ম থেকেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ আগস্ট ফার্ম কর্তৃপক্ষকে বৈঠকে ডাকে জেলা প্রশাসন। তাদের প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে বলা হয়। কিন্তু সমস্ত নথি দেখাতে না পারায় পোল্ট্রি ফার্মটি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন জেলাশাসক শমা পারভীন। সাতদিনের মধ্যে ফার্ম থেকে মুরগি সরিয়ে নিতে বলা হয়।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে ফার্ম কর্তৃপক্ষ মুরগি সরানোর কাজ শুরু করতেই রুটি-রুজির প্রশ্ন তুলে বাধা দেন গ্রামবাসীর একাংশ। ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার শতাধিক বাসিন্দা কর্মসংস্থান হারাবেন বলে দাবি করেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ওই ফার্ম নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরে ফের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব ও রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বৈঠক চলাকালীন বেলগাছিয়া ল্যাব থেকে জেলা প্রশাসনের হাতে রিপোর্ট এসে পৌঁছয়। সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে স্পষ্ট, পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সংক্রমণ ছড়ায়নি। এরপরই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফার্মটি বন্ধ করা হবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে চলবে সেটি।
জেলাশাসক বলেন, ফার্ম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়েছে। তাছাড়া ফার্মে প্রচুর মুরগি রয়েছে, সবটা খতিয়ে দেখেই কর্তৃপক্ষকে নিয়ম মেনে ফার্ম চালানোর জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
ফার্মটি যে সংস্থার অধীনে, তার ডিরেক্টর বিকাশ রেড্ডি বলেন, এদিনের বৈঠকে জেলা প্রশাসন যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে আমরা খুশি। প্রশাসনের তরফে আমাদের ফার্মের মুরগির রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার রিপোর্ট এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, আমাদের ফার্ম থেকে সংক্রমণ ছড়ায়নি। সেকারণে প্রশাসনের তরফে ফার্ম বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে, রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের চেকরমারি, পেলকুগছ সহ আশপাশের যে সমস্ত গ্রামে লেপ্টোস্পাইরা এবং হেপাটাইটিস এ’র সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, তা আপাতত নিয়ন্ত্রণে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।