সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: সারি সারি দোকান বসেছে। আলু, পেঁয়াজ, শাকসব্জি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের সঙ্গেই টেবিল পেতে চেম্বার খুলে চিকিত্সা করছেন হাতুড়েরা। কীসের চিকিত্সা হয় না সেখানে! হার্ট, কিডনি, লিভার-সব রোগের ওষুধ আছে ওই হাতুড়েদের কাছে। তবে, বেশিরভাগ দাঁত তোলার কাজ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর রমরমিয়ে চলছে তাঁদের ব্যবসা। দেদার বিক্রি হচ্ছে ওষুধ। কারও কোনও নজরদারি নেই। চাঁচল মহকুমাজুড়ে এই ছবি ধরা পড়েছে। যদিও এদিন টিম গঠন করে অভিযানে নামার কথা বলেছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।
মালদহ জেলার চাঁচল, রতুয়া, সামসী, কুশিদা, তুলসীহাটা ও গোবরা হাটে দাঁত থেকে শুরু করে জ্বর, সর্দি-কাশি, অম্বল এমনকী পেটে পাথর হলে গলানোর চিকিৎসা করে থাকেন ওই হাতুড়েরা। তবে, কোনও ফি নেই। ওষুধের দামের সঙ্গে বাড়তি কিছু টাকা জুড়ে দেন হাতুড়েরা। সস্তায় চিকিৎসা পেতে গ্রামের মানুষও ভিড় জমান হাটের হাতুড়েদের কাছে। বড় ক্ষতি হতে পারে, সেদিকে তাঁদের কোনও হুঁশ নেই। এবিষয়ে জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, ভুয়ো ডাক্তার ধরতে অভিযান চালানো হবে।
হাতুড়েরা অবশ্য নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, তাঁদের কোনও প্রশিক্ষণ নেই। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই চিকিত্সা চালিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা হাটে হাটে ঘুরে ডাক্তারি করছে। কেউ ভুটভুটি, আবার অনেকে ছোটগাড়িতে করে আয়ুর্বেদিক ও অ্যালোপ্যাথি ওষুধ বিক্রি করে থাকেন। বড় বড় পোস্টার ছাপিয়ে নিজেদের ডাক্তার বলে প্রচার করছেন তাঁদের অনেকে। অনেকে আবার বাইকের সামনে চিকিৎসক লিখে এলাকায় ঘোরেন। এলাকার সাধারণ মানুষ সেই হাতুড়েদের ফাঁদে পড়ে চিকিৎসা করিয়ে বিপদেও পড়ছেন। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সামিম বলেন, গ্রামে হাতুড়ে ডাক্তার আছেন। হাটে হাটে এখন ভুয়ো চিকিৎসকদের রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পার করেননি এমন বহু যুবক ভুটভুটি নিয়ে গ্রামে ও হাটে ওষুধ বিক্রি করেন। বিহারেও তাঁদের পসার রয়েছে। আসলে মানুষের জীবন নিয়ে তাঁরা খেলা করছেন। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
রতুয়া এলাকার বাসিন্দা তথা হাতুড়ে মহম্মদ রামিজুদ্দিন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর হাটে হাটে দাঁতের চিকিৎসা করি। বাড়িতেও চেম্বার রয়েছে। প্র্যাকটিস করে ডাক্তারি শিখে গিয়েছি। মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত কেউ চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ করেননি।
মানিকচক নুরপুর এলাকার বাসিন্দা তথা আরেক হাতুড়ে শেখ আতাউরের কথায়, ১০ বছর ধরে ডাক্তারি করছি। জেলার তিন জায়গায় চেম্বার আছে। প্র্যাকটিসের উপর নির্ভর করেই ডাক্তারি করছি।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ী বলেন, রেজিস্টার্ড গ্রামীণ চিকিৎসকদের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, পড়াশোনা না জানলেও ডাক্তার সেজে চিকিৎসা করছেন, এমন বিষয় ভয়াবহ। টিম গঠন করে ভুয়ো চিকিৎসকদের খোঁজে অভিযান চালানো হবে।