Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লালগোলায় ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে উদ্যোগী প্রশাসন

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে লালগোলার তারানগর গ্রামের বেশকিছু পরিবার বসতভিটে হারিয়েছে। বাস্তুহারা ওই পরিবারগুলিকে পুনর্বাসন দেওয়ার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে।

লালগোলায় ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে উদ্যোগী প্রশাসন
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে লালগোলার তারানগর গ্রামের বেশকিছু পরিবার বসতভিটে হারিয়েছে। বাস্তুহারা ওই পরিবারগুলিকে পুনর্বাসন দেওয়ার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে তিনটি মৌজায় জমি চিহ্নিত করার কাজ শেষ। এখন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি চলছে। তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেই জমি বণ্টন করা শুরু হবে। ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, পুনর্বাসনের জন্য ব্লক প্রশাসন, বিধায়ক এবং পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে কমিটি গঠন হয়েছিল। সরেজমিনে খতিয়ে দেখে ক্ষতিগ্রস্তদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকা হাতে পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দু’শতক করে জমি পাট্টা দেওয়া হবে। 

Advertisement

গত কয়েক বছর ধরে লালগোলার তারানগরে ধারাবাহিকভাবে পদ্মার ভাঙন চলছে। তবে চলতি বছর গত ১৫আগস্ট থেকে তারানগরে ভাঙন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। কয়েকশো বিঘা চাষের জমি পদ্মার গর্ভে চলে গিয়েছে। বেশ কিছু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে ত্রাণশিবির এবং আত্মীয় পরিজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার দ্রুত তাঁদের পুনর্বাসনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে লালগোলা ব্লকের তিনটি মৌজায় জমি চিহ্নিত হয়েছে। দেওয়ানসরাই পঞ্চায়েতের গৌরীদাসপুর মৌজায় চার বিঘা জমি আপাতত ঠিক হয়েছে। আরও দু’টি মৌজায় জমি চিহ্নিত হয়েছে। তিনটি মৌজায় আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ঠাঁই দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে দু’শতক করে জমি দেওয়া হবে বলে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই জমির পাট্টা এবং বাংলার বাড়ির টাকা দেওয়া হবে। তাঁরা যাতে অন্তত মাথা গুঁজে থাকতে পারেন সেই লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে।
লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন, জমি চিহ্নিতকরণের কাজ প্রায় শেষের পথে। গৃহহারাদের বাংলার আবাস যোজনায় টাকা দেওয়া হবে। মোট ১৩৮টি পরিবার ওই টাকা পাবে। প্রথম দফায় সাতটি পরিবারের জন্য টাকা চলে এসেছে। দ্বিতীয় দফায় ১৩১জন টাকা পাবেন। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরও তিন দফার জন্য অন্যান্য কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব পরিবার ত্রাণশিবিরে রয়েছে তাদের থাকা, খাওয়া স্বাস্থ্যের বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রেখেছে জেলা প্রশাসন। এলাকার বাসিন্দা শ্যামলকুমার ঘোষ বলেন, ত্রাণশিবিরে কোনও সমস্যা নেই। মানুষ এখন পুনর্বাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ