Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর রাতে ত্রাণ শিবিরে বিশেষ মেনু প্রশাসনের, পনির, চাটনি, দই-মিষ্টি, দীপাবলিতে মাটিগাড়ায় জ্বালানো হল মোম, পুড়ল বাজি

বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে বসতভিটা। কবে, কোথায় মাথার উপর ছাদ হবে তাও জানেন না দুর্গতরা। দু’সপ্তাহ ধরে তাঁদের ঠিকানা ত্রাণ শিবির।

পুজোর রাতে ত্রাণ শিবিরে বিশেষ মেনু প্রশাসনের, পনির, চাটনি, দই-মিষ্টি, দীপাবলিতে মাটিগাড়ায় জ্বালানো হল মোম, পুড়ল বাজি
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে বসতভিটা। কবে, কোথায় মাথার উপর ছাদ হবে তাও জানেন না দুর্গতরা। দু’সপ্তাহ ধরে তাঁদের ঠিকানা ত্রাণ শিবির। তাঁদের মধ্যে আলোর উৎসব দীপাবলি ও কালীপুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে উদ্যোগী হয় মাটিগাড়া ব্লক প্রশাসন। তারা ত্রাণ শিবিরে সোমবার রাতে বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করে। তাতে ছিল ভাত, ডাল, পনির থেকে চাটনি, দই ও মিষ্টি। সেই সঙ্গে মোমবাতি জ্বালানো হয়, খুদেদের দেওয়া হয় আতশবাজি। 

Advertisement

দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল বলেন, শুধু মাটিগাড়া নয়, জেলার প্রতিটি ত্রাণ শিবিরেই এদিন বিশেষ মেনুর ব্যবস্থা ছিল। এর আগে দুর্গতদের নতুন পোশাক বিলি করা হয়েছিল। জেলায় এখন ১৯টি শিবিরে দুর্গতর সংখ্যা প্রায় ৬৩০ জন। 
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভয়াবহ প্রাকৃতি দুর্যোগের শিকার হয় মাটিগাড়ার প্রমোদনগর, বিনয়নগর। নদীরপাড়, রাস্তা, বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
দুর্গতদের ঠাঁই হয়েছে প্রমোদনগর এসএসকে এবং রাধারঞ্জন প্রাথমিক স্কুলে। দুর্যোগ কাটার পর অধিকাংশ লোক বাড়ি ফিরে গেলেও এখনও শিবিরে আছে ১১টি পরিবার। বালাসন নদী গ্রাস করেছে বসতভিটা। কাজেই আলোর উৎসব তাঁদের কাছে ফিকে। এখন তাঁরা পুনর্বাসনের দিকে তাকিয়ে। 
দুর্গতদের একাংশ বলেন, দুর্গাপুজোর শেষে প্রকৃতি সব কেড়ে নিয়েছে। কবে, কোথায়, কীভাবে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করব, ভেবে পাচ্ছি না। লক্ষ্মীপুজোও করতে পারিনি। দীপাবলি ও কালীপুজোতেও শিবিরে আছি। শক্তির দেবী কালীর কাছে প্রার্থনা করছি— আগের মতো গ্রাম গড়ে দেওয়ার। 
দুর্গতদের মধ্যে আলোর উৎসব ও কালীপুজোর আনন্দ ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেয় মাটিগাড়া ব্লক প্রশাসন। তারা শিবিরে রাতে বিশেষ মেনু রেখেছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, দু’টি শিবিরে ৪১ জন আছেন। এরমধ্যে রাধারঞ্জন প্রাথমিক স্কুলে ২৬ এবং প্রমোদনগর এসএসকেতে ১৫ জন। যারমধ্যে চার-পাঁচজন শিশু। রাতে দু’টি শিবিরে ভাত, মুগডাল, আলু-ফুলকপি দিয়ে পনির, বাঁধাকপির ঘণ্ট, পাপর ভাজা, চাটনি, দই ও মিষ্টি দেওয়া হয়। 
গ্রামগুলি আঠারোখাই পঞ্চায়েতের অধীনে। প্রধান যূথিকা খাসনবিস বলেন, লক্ষ্মীপুজোর দিন দুর্গতদের মধ্যাহ্নভোজে ছিল পায়েস। কালীপুজো উপলক্ষে রাতে বিশেষ মেনু করা হয়। ব্লক প্রশাসনের সহায়তায় এটা করা হয়েছে। আলোর উৎসব উপলেক্ষ নিজে শিবিরগুলিতে মোমবাতি নিয়ে গিয়ে জ্বালাই। খুদেদের মধ্যে তারাবাতি, ফুলঝুড়ি, পটকা বিলি করেছি। 
এদিকে, শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন দুর্যোগ বিধ্বস্ত পোড়াঝারের বাসিন্দারা ত্রাণ শিবির থেকে ফিরেছেন বাড়িতে। তা হলেও গ্রামে কালীপুজোর সেই আনন্দ নেই। এবার সেখানে নমোনমো করে হচ্ছে কালীপুজো।   নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ