নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দিন দিন জমির দামও অগ্নিমূল্য হয়ে উঠেছে! স্বাভাবিকভাবেই জমি দানে আগ্রহ আর আগের মতো নেই। ফলে জমির অভাবে বীরভূম জেলায় একহাজারের বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। কোথাও স্কুলঘরে, কোথাও আবার পাড়ার ক্লাবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে। তাই এবার জেলা প্রশাসন ১৩২০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য জমি পেতে আমজনতার দুয়ারে পৌঁছতে শুরু করল। নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে জমিদানে আগ্রহী করে তোলাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সেইসঙ্গে বুনিয়াদি শিক্ষার মানোন্নয়নে সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তোলা শুরু হয়েছে। সেজন্য বাছাই করা ১৩০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে টিভি বসতে চলেছে। ফলে ওই সমস্ত কেন্দ্রে পড়ুয়ারা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
জেলা পরিষদের শিশু ও নারী উন্নয়ন কর্মাধ্যক্ষ কাবেরিকা গুইন বলেন, খুব তাড়াতাড়ি ১৩০০ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে টিভি বসতে চলেছে। সেইসঙ্গে জেলার ১৩২০টি কেন্দ্রের জন্য জমি খোঁজার কাজ চলছে। ব্লক থেকে পঞ্চায়েতস্তরে মানুষকে জমিদানে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা চলছে। জমি পেলেই ভবন তৈরি হবে।
জেলার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মানোন্নয়নে প্রশাসন কোনও খামতি রাখছে না। জেলাজুড়ে ৫১৯১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৭১টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি ১৩২০টির কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। অগ্নিমূল্য বাজারে বিনামূল্যে জমি মেলা ভার। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য কেউ জমিদান করলে জমিদাতাকে যোগ্য সম্মান জানানো হবে। জমিদাতা চাইলে কেন্দ্রের নামের সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দেওয়া হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এক-একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তুলতে ন্যূনতম এক কাঠা জমি প্রয়োজন। নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি পেলেই সরকারি টাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেইসঙ্গে কিচেন গার্ডেন তৈরিতেও জেলা প্রশাসন জোর দিয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কিচেন গার্ডেন তৈরি হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামো নিয়ে নানা এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। জেলা প্রশাসন সেই ক্ষোভের অবসান ঘটাতে নানা পদক্ষেপ করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ১৩০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করে টিভি বসানো শুরু হয়েছে। বাচ্চাদের পরিস্রুত পানীয় জল দিতে ওয়াটার ফিল্টার বসানোর কাজও চলছে।