Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজুয়া চরে ড্রোন উড়িয়ে বালি চুরিতে নজরদারি প্রশাসনের

কাটোয়ায় অজয় পাড় লাগোয়া রাজুয়া গ্রামে এগারো দিন আগেই ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন একজন।

রাজুয়া চরে ড্রোন উড়িয়ে বালি চুরিতে নজরদারি প্রশাসনের
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া:  কাটোয়ায় অজয় পাড় লাগোয়া রাজুয়া গ্রামে এগারো দিন আগেই ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন একজন। তদন্ত ইঙ্গিত করছে, বেআইনি বালির কারবারের দিকে। এবার সেই অজয়ের চরে ড্রোন দিয়ে নজরদারি শুরু করল প্রশাসন। মঙ্গলবার সারাদিন ড্রোন ওড়ানো হয়।  ছিলেন  ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিসারেরা৷ কাটোয়া মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিসার সৌমিত্র সামন্ত বলেন, ‘আমরা ড্রোন দিয়ে পুরো এলাকা ম্যাপিং করেছি৷ ড্রোনের রিপোর্ট আসার পর জানতে পারব কোনও বেনিয়ম হচ্ছে কি না।’ কাটোয়ার অজয়ের পাড়ে উড়ছে দেদার টাকা৷ আর সেই টাকায় ফুলেফেঁপে উঠছে এক শ্রেণির অসাধু কারবারিরা৷ এলাকার বহু যুবক তাদের খাতায় নাম লিখিয়েছে৷ রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নেশায় কেউ কেউ চাকরি ছেড়ে  বালির কারবারে নেমেছে৷ কাটোয়ার চুড়পুনি, রাজুয়া, যতীনপুর, আঙারপুর এসব গ্রাম গুলি অজয় লাগোয়া৷ জল বাড়লেই এসব গ্রামগুলি প্লাবিত হয়ে পড়ে৷ তখনই জেসিবি দিয়ে জমি খুঁড়ে তার নীচ থেকে বালি তুলেছে কারবারিরা৷ এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এখন অজয়ের জল বাড়ছে৷ কাটা খালে জল ঢুকছে৷ তাতে অজয়ের গতিপথ বদলাচ্ছে বলে অভিযোগ৷ স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এতে অজয়ের জল আরও বাড়লে সব ভেসে যাবে৷ ‘বর্তমান’ পত্রিকায় এনিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ তার জেরেই এদিন অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার)-এর নির্দেশে ড্রোন নিয়ে তদন্তে নামল পুরো টিম৷ 

Advertisement

প্রশাসন ড্রোন উড়িয়ে মূলত দেখতে চাইছে, নদীর গতিপথ কী রয়েছে৷ সেখানে কিভাবে জমি কেটে নীচ থেকে বালি তোলা হয়েছে৷ চুড়পুনি রাজুয়া এলাকায় পরিত্যক্ত ইঁট ভাটার কাছে দুটো নদী হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু অবাক করা  বিষয়, প্রশাসনের নাকি জানাই ছিল না৷ ওই এলাকার মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে রয়েছে কোশিগ্রাম পঞ্চায়েত। প্রধান ঋজু সাহা বলেন, আমার জানা নেই৷ কিভাবে জমি কেটে তার নীচ থেকে বালি তোলা হয়েছে৷ এক বালি কারবারি বলেন, ওই জমি কেটে আমরা বালি তুলিনি৷ আমাদের আগে অন্য কেউ বেআইনিভাবে বালি তুলেছে৷ 
এদিকে, বালি কারবারের বাড়বাড়ন্তের পিছনে গ্রামবাসীরা কাঠগোড়ায় তুলেছেন পুলিসকে। তাঁদের অভিযোগ, রাতদিন জমি কেটে বালি তোলা হচ্ছে।  পুলিস সবই জানে৷ তবুও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।  কারণ, বালির কারবারিদের মাথায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে। ইঁটভাটার ঝোপ-জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে জেসিবি মেশিনগুলি৷ এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলার ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক অফিসার বলেন, ড্রোন দিয়ে আমরা বুঝতে পারব, নদীর গতিপথ কিভাবে বদলে যাচ্ছে৷ জমি কেটে কিভাবে খাল কেটে রাখা হয়েছে। সেই ছবিও আমরা তুলেছি৷ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট আকারে সব জানাব। রাজুয়া গ্রামের এক বাসিন্দা বলছিলেন, বোমা বিস্ফোরণের কাণ্ডের সঙ্গে যোগ রয়েছে বালির কারবারের৷ বালির ঘাটের চরের দখলদারির জন্যই বোমা বাঁধা হচ্ছিল৷

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ