Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাসপুরে গোল্ডহাব নিয়ে তৎপরতা প্রশাসনের, উদ্বোধন কি বৈশাখেই?

আসন্ন বৈশাখ মাসেই কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প দাসপুরের গোল্ডহাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে?

দাসপুরে গোল্ডহাব নিয়ে তৎপরতা প্রশাসনের, উদ্বোধন কি বৈশাখেই?
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: আসন্ন বৈশাখ মাসেই কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প দাসপুরের গোল্ডহাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে চলেছে? সোমবার জেলাস্তরের জনপ্রতিনিধি ও ইঞ্জিনিয়ারদের তড়িঘড়ি গোল্ডহাব পরির্দশন করার পর এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিন দাসপুর-২ ব্লকের ফরিদপুরের গোল্ডহাবটি পরিদর্শনে আসেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ, কৃষি সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুদাইত, দাসপুর-২ বিডিও প্রবীরকুমার শীট, জেলা পরিষদের সদস্য প্রতিমা দোলই সহ জেলার ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁরা এদিন বেশ কিছুক্ষণ গোল্ডহাবে গিয়ে সময় কাটান, সম্পূর্ণ হওয়া তিনতলা বিশিষ্ট গোল্ডহাবের প্রত্যেকটি রুম নিরীক্ষণ করে দেখেন। নির্মলবাবু অবশ্য বৈশাখ মাসে উদ্বোধনের প্রসঙ্গটি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘কতটা কাজ শেষ হয়েছে তা দেখার জন্য এসেছিলাম। দেখলাম হাব চালুর করার মতো তিনতলা পর্যন্ত কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। যেহেতু এটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রজেক্ট। তিনিই বলতে পারবেন কবে উদ্বোধন হবে।’

Advertisement

২০২০ সালের ৬ অক্টোবর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরে এসে ঘাটাল মহকুমার স্বর্ণশিল্পীদের জন্য একটি গোল্ড হাব তৈরির বিষয়ে সিলমোহর দেন। ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাসপুর-২ ব্লকের ফরিদপুরে প্রস্তাবিত গোল্ডহাবের শিলান্যাস করেন। শিলান্যাসের পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে কাজ চলতে থাকে। বর্তমানে গোল্ডহাবের ভবন তৈরির কাজ প্রায় শেষ হতে চলেছে। হাবটি তৈরির জন্য সাত কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। 
ঘাটাল মহকুমার বেশ কয়েক হাজার যুবক সোনার কাজের জন্য কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, আমেদাবাদ, পুনে, চেন্নাই সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন। রাজ্যের বাইরে কাজ করতে গিয়ে স্বর্ণশিল্পীদের নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়। যাঁরা কম পুঁজির মালিকের কাছে কাজ করেন, তাঁদের সারা বছর কাজ থাকে না। সেজন্য বছরের তিন চার মাস করে স্বর্ণশিল্পীদের বাড়িতে এসে কাটাতে হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই স্বর্ণশিল্পীদের জন্য একটি হাব করার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালানো হয়। সেই চিন্তাভাবনাই বাস্তবায়িত হল বলে এদিন জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেন।
আশিসবাবু বলেন, হাবটি চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজারেরও বেশি কারিগর কাজের সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, ইতিমধ্যে ১৯ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে একটি সমবায় গঠন করা হয়েছে। হাবে সোনার গয়না তৈরি থেকে আমদানি রপ্তানির যাবতীয় কাজের দায়িত্ব তাঁদের হাতেই থাকবে। সমবায়ের সদস্য হতে হলে এক লক্ষ করে টাকা দিয়ে ১০০টি করে শেয়ার কিনতে হবে। সদস্য সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। ঊর্ধ্বসীমা এখনও ঠিক হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তাঁরাই ওখানে সোনার গয়না তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জায়গার শোরুমে বিক্রির ব্যবস্থা করবেন। ইতিমধ্যে শতাধিক কারিগর নিজেদের নথি জমা দিয়ে কাজের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
সাততলা বিল্ডিঙের বর্তমানে তিনতলা পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। নীচের তলায় গ্যারেজ থাকবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলে গয়না তৈরির কারখানাগুলি হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ