সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: চিনি ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিকে ঘিরে বাজারে নজরদারি জোরদার করল প্রশাসন। গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের নির্দেশে গঠিত টাস্ক ফোর্স শনিবার গঙ্গারামপুর শহর ও নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। বাজার পরিদর্শনের পাশাপাশি চিনি ও পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরো দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ফারাক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।
এদিন চিনি মজুতদার ও পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় বিক্রয়ের হিসাব ও বিল পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। তাঁদের নজরে আসে, পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ৪৮-৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও খুচরো বাজারে সেই চিনির দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। দামের এই অস্বাভাবিক তারতম্য যাতে না থাকে সে বিষয়ে খুচরো ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের মতামত নেন আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, পেঁয়াজের দাম বেশ কয়েকদিন ধরে খুচরো বাজারে কেজি প্রতি প্রায় ৫০ টাকা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাসিকে বর্ষাকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন ঘাটতির কারণে প্রতি বছর পুজোর মরসুম পর্যন্ত পেঁয়াজের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। তবে শিলিগুড়ি থেকে যে দামে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে, তার উপর অযৌক্তিক ভাবে অতিরিক্ত দাম চাপানো হচ্ছে কি না সেদিকেও বিশেষ নজর রাখছে টাস্ক ফোর্স।
সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের উদ্যোগে একাধিক দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। দলে রয়েছেন উপভোক্তা বিষয়ক দফতর, পুলিশ, মহকুমা প্রশাসন ও এগ্রো মার্কেটিং দফতরের আধিকারিকরা। আগামী এক মাস মহকুমার বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ বাজারে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাইকারি ও খুচরো দামের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
টাস্ক ফোর্সের এক আধিকারিক বলেন, মহকুমা শাসকের নির্দেশে এক মাস ধরে বাজারে অভিযান চলবে। পাইকারি বাজারে চিনির দাম সামান্য বেড়েছে। কিন্তু কোনো ভাবে ৭০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করা যাবে না। কোথাও এমন অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মহকুমা জুড়ে নজরদারি চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারেন।
গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা অনিমেষ ঘোষ বলেন, বিভিন্ন দোকানে চিনির দাম বিভিন্ন রকম। এই দামের তারতম্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এখন থেকে যাতে আর দাম না বাড়ে প্রশাসনকে সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।