Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণে আপত্তি, আদিবাসীদের রাজি করাতে দফায় দফায় বৈঠক পুলিশ ও প্রশাসনের

এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নারাজ রানিবাঁধের আদিবাসী পরিবারগুলির সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শুরু করল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।

এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণে আপত্তি, আদিবাসীদের রাজি করাতে দফায় দফায় বৈঠক পুলিশ ও প্রশাসনের
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নারাজ রানিবাঁধের আদিবাসী পরিবারগুলির সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শুরু করল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। বুধবার ওই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তা নিয়ে জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে হইচই শুরু হয়েছে। মাওবাদীরা উদ্ভুত পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে যে কোনও উপায়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনকে ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণে রাজি করাতে আধিকারিকরা উঠেপড়ে লেগেছেন। এসআইআর নিয়ে বাঁকুড়ার নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক দেবীপ্রসাদ কারনাম এদিন জেলায় পৌঁছেছেন। তারমধ্যেই বিতর্ক মাথাচারা দেওয়ায় জেলা প্রশাসনের কর্তারা অস্বস্তিতে পড়েছেন। তবে, রানিবাঁধের ওইসব ভোটারদের রাজি করানোর ব্যাপারে প্রশাসন আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমেছে বলে জানিয়েছেন খাতড়ার মহকুমা শাসক শুভম মৌর্য।

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আধিকারিকরা রানিবাঁধের রাউতোড়া অঞ্চলে গিয়ে ওইসব আদিবাসী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিন জেলা পুলিশ সুপারের অফিসেও কয়েকজনকে ডেকে পাঠিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ফর্ম পূরণের জন্য তাঁদের আমরা রাজি করানোর চেষ্টা করছি। কয়েকজন শিক্ষক আদিবাসীদের একাংশকে নিরুৎসাহিত করলেও নিজেরা ‌ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এভাবে কাউকে উস্কানি বা প্ররোচনা দেওয়া যায় না। আমরা প্রয়োজনে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারি। 
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষক দেবীপ্রসাদ কারনাম এদিন জেলায় এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এদিন বিকেলে তিনি ছাতনা এলাকায় গিয়ে বিএলও, ভোটার ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা ষাটোর্ধ্ব ভোটারদের ব্যাপারে পর্যবেক্ষক খোঁজ নিচ্ছেন। ওইসব ভোটারদের বয়স বর্তমানে ৮৩ বছর পার হয়ে গিয়েছে। তাঁরা বর্তমানে কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন তা তিনি খতিয়ে দেখেছেন। 
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিবাঁধ ব্লকের ১৩৪জন আদিবাসী নিজেদের অন্তর্রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী মাঝি সরকারের আওতাধীন বলে দাবি করেছেন। ভারত সরকারের কোনও পরিচয়পত্র বা দেশের নাগরিকত্ব তাঁদের প্রয়োজন নেই বলেও তাঁদের দাবি। মূলবাসী হিসেবে তাঁরা সাধারণভাবেই এদেশের নাগরিক এবং মাঝি সরকারই তাঁদের অভিভাবকস্বরূপ বলে আদিবাসীদের একাংশ দাবি করেছেন। তাঁদের কাছে থাকা আধার, ভোটার, প্যান কার্ড সহ যাবতীয় সরকারি পরিচয়পত্র তাঁরা রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। ঘটনায় জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ কেউ ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ না করলে নতুন ভোটার তালিকায় নাম উঠবে না। সেক্ষেত্রে একসঙ্গে শতাধিক আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্তের নাম তালিকায় না ওঠার বিষয়টি রাজ্যস্তরেও আলোচিত হতে পারে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। সেই কারণে তাঁরা যেকোনও উপায়ে তাঁদের ফর্ম পূরণের জন্য রাজি করানোর ব্যাপারে উঠেপড়ে লেগেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ