সংবাদদাতা, রামপুরহাট: স্থায়ী দোকানঘর করা যাবে না। মালপত্র নিয়ে এসে চেয়ার-টেবিল পেতে ব্যবসা করতে পারেন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরইমধ্যে রামপুরহাট শহরে কোথাও পাকা দোকানঘর, কোথায় গুমটি বসানো শুরু হয়েছে। নজরে আসতেই মঙ্গলবার রাতে জেসিবি নিয়ে স্থায়ী দোকানঘর ভাঙতে এসে ফুটপাত উচ্ছেদ বিরোধী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন পুলিস-প্রশাসনের কর্তারা।
গতবছর পুজোর আগে রামপুরহাট শহরে বুলডোজার দিয়ে ফুটপাত দখল করে থাকা একের পর এক দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তারপর পেরিয়েছে ১৪মাস। কিন্তু পুনর্বাসন মেলেনি। হকার জোন তৈরি হয়নি। তখন থেকে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ত্রিপল টাঙিয়ে নিত্যদিন মালপত্র নিয়ে যাওয়া আসা করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে আসছেন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এরই মধ্যে মহকুমাশাসকের অফিস সংলগ্ন এলাকায় সাটারযুক্ত লোহার গুমটি ও পাকা মেঝে করে স্থায়ী দোকান তৈরি হয়েছে। সরকারি রাস্তার ধারে অবৈধভাবে নির্মিত পাকা দোকানঘর উচ্ছেদ হওয়ার পরও নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। রাতে ফুটপাত এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে জেসিবি নিয়ে ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে আসেন পুলিস-প্রশাসনের কর্তারা। পুজোর মুখ এই উচ্ছেদের বিরোধিতায় পথে নামেন ফুটপাত উচ্ছেদ বিরোধী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। তাঁরা প্রশাসনের কর্তাদের সামনে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিছুতেই ওই দোকান উচ্ছেদ করতে দেওয়া হবে না বলে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। অবশেষে প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে পিছু হটেন পুলিস-প্রশাসনের কর্তারা।
যৌথ মঞ্চের পক্ষে সাহাজাদা হোসেন বলেন, পুজোর আগে প্রশাসন অমানবিকভাবে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উপর অত্যাচার করছে। প্রতিশ্রুতি মতো আমাদের হকার জোন করে দিক। এক ঘণ্টার মধ্যে সরে যাব। শহরের পেট্রল পাম্পের সামনে, হাইস্কুল ও ইলেক্ট্রিক অফিসের পাঁচিল ঘেঁষে অনেক স্থায়ী দোকান রয়েছে। সেগুলি কেন থাকছে? এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন? প্রশাসন যখন নিজেদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না তখন আমরা নিজেদের মতো করে দোকান করে নিচ্ছি।
মহকুমাশাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, শহরের রাস্তায় যানজট কমাতে ও জনগণের ভোগান্তি লাঘব করতে রাস্তার ধারে থাকা অবৈধ দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই আবার পাকা দোকানঘর হয়েছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগও নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেই নির্মাণ ভাঙতে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিস কম থাকায় হয়নি। খুব শীঘ্রই সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে। উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র