Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চূর্ণী দখল করে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে ২৪ ঘণ্টা সময় প্রশাসনের

রানাঘাটের চূর্ণী নদীর অংশ দখল করে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে।

চূর্ণী দখল করে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে ২৪ ঘণ্টা সময় প্রশাসনের
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাটের চূর্ণী নদীর অংশ দখল করে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার সড়কপাড়া খেয়াঘাট লেনের সংলগ্ন এলাকায় নদীর ধার পরিদর্শনে যান একাধিক দপ্তরের আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, রানাঘাট ১ ও ২ ব্লকের ভূমিদপ্তরের কর্তারা এবং পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি দেখা হয়। সেখানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, সেইসব জায়গা চিহ্নিত করা হয়। অভিযুক্ত নির্মাতাকে অবৈধ অংশ নিজ দায়িত্বে ভেঙে সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নচেৎ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রের খবর, নদীর জলস্তর পর্যন্ত মাটি, বালি ও ইট ফেলে ভরাট করে যে কংক্রিটের ভিত তৈরি হয়েছে, তা আইন বিরুদ্ধ। জলের গতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পরিদর্শক দলের রিপোর্ট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্মাণের অংশটি অবৈধ বলে চিহ্নিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঠামো অপসারণ না হলে পুরসভা নিজেই ভাঙার কাজ শুরু করবে এবং খরচ আদায়ের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রানাঘাটের চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নদী দখল বা নদী বুজিয়ে নির্মাণ কোনওভাবেই মানা হবে না। তিনি জানান, চূর্ণীর গতিপথ রক্ষা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। তাই সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমী মহলের বক্তব্য, কেবল মাত্র কাঠামো ভাঙলে সমস্যা মিটবে না। নদীর যে অংশ ভরাট করা হয়েছে, তা খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে, তবেই নদীর স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে। এই ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার শহরজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টিতে নজরে রাখা হচ্ছে। নদী দখল এবং অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সমন্বিত নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানোর কথাও উঠছে। 
 ঘটনাস্থলে প্রশাসনিক কর্তারা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ