Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি, রাবিশ ফেলে রাস্তা সারালেন শিক্ষক ও বাসিন্দারাই

পথই দেখাচ্ছে পথ। এই বর্ষায় স্কুলে আসার পথ বানিয়ে নিয়েছেন স্কুলের মাস্টারমশাই ও দিদিমণিরাই। সেই পথ ধরেই ছাত্রছাত্রীরা আরও বেশি করে স্কুলে আসবে, এমন আশায় বুক বাঁধছেন সকলে।

প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি, রাবিশ ফেলে রাস্তা সারালেন শিক্ষক ও বাসিন্দারাই
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: পথই দেখাচ্ছে পথ। এই বর্ষায় স্কুলে আসার পথ বানিয়ে নিয়েছেন স্কুলের মাস্টারমশাই ও দিদিমণিরাই। সেই পথ ধরেই ছাত্রছাত্রীরা আরও বেশি করে স্কুলে আসবে, এমন আশায় বুক বাঁধছেন সকলে।

Advertisement

নবদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন বঙ্গবাণী আরবান জুনিয়র বেসিক স্কুলের সমস্যা শুধু এক জায়গাতেই। তা হল, স্কুলে যাতায়াতের কোনও রাস্তা নেই। প্রতিদিনই মাঠের মধ্যে দিয়ে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের যাতায়াত করতে হয়। এই বর্ষার সময়ে জলকাদার জন্য অনেক ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসতে পারে না। একজন মানুষ পায়ে হেঁটে বা সাইকেল নিয়ে স্কুলে আসতে পারেন, তেমন রাস্তা হলেই কাজ মিটে যায়। রাস্তার বিষয়ে স্কুলের তরফে প্রশাসনিক দপ্তরে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু কাজ কিছু হয়নি। তাই আর দেরি না করে, এই বর্ষায় ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে শিক্ষকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। বিল্ডিং ভাঙা রাবিশ সংগ্রহ করে কাদা রাস্তায় ফেলেছেন। যাতে স্কুলে আসতে পা ডুবে না যায়। নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর বঙ্গবাণী এলাকায় নবদ্বীপ বঙ্গবাণী আরবান জুনিয়র বেসিক স্কুল প্রায় ৭১ বছরের প্রাচীন। এখানে প্রাক প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। একজন প্যারা টিচার সহ তিনজন স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। তবে ছাত্রছাত্রী মাত্র ২৮ জন। স্থানীয় বিন্দনাথপুরের বাসিন্দা দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, আমার ছেলে আদিত্য এই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ভারী বৃষ্টি হলে কাদার জন্য স্কুলে যেতে পারে না। 
স্কুলের শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাস জানান, এই স্কুলে প্রায় ১৯ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আমাদের স্কুলে একটাই সমস্যা— রাস্তা। বঙ্গবাণী রোড থেকে স্কুলে আসার মাত্র ৭০ মিটার পাকা রাস্তা যদি করে দেওয়া হয়, তাহলেই সমস্যা মিটে যায়। আগে এতটা কাদা হতো না। এখন এই মাটির রাস্তার উপর দিয়ে ট্র্যাক্টর সহ বিভিন্ন যানবাহন যাতায়াত করে। এর ফলে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। রাস্তার বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলার এবং পুরসভাকে জানানো হয়েছে। পার্শ্ব শিক্ষক সুদীপ দাস বলেন, আমরা আশা করছি স্কুলে আসার রাস্তা ভালো হলে নতুন ছাত্র ভর্তি হবে। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়লে স্কুলটিও বাঁচবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ শীল জানান, সম্প্রতি আমরা স্থানীয় বাসিন্দা মাধাই ঘোষ সহ অন্যান্য বাসিন্দাদের সহযোগিতায় নবদ্বীপ হাসপাতাল থেকে কিছু বিল্ডিং ভাঙা সংগ্রহ করে এনেছি। সেগুলি এই যাতায়াতের রাস্তায় ফেলেছি। এ বিষয়ে নবদ্বীপ হাসপাতালের সুপারের কাছে আমরা লিখিত আবেদন করেছিলাম। উনি আমাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিল্ডিং ভাঙা ফেলে ছাত্রছাত্রীরা যাতে স্কুলে আসতে পারে সে ব্যবস্থা সাময়িকভাবে করেছি। সম্প্রতি স্কুলে যাতে আরও ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় সেজন্য আমরা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলাম। অভিভাবকরা আমাদের বলেছিলেন, আপনাদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তা কোথায় যে ওদের স্কুলে পাঠাব।
নবদ্বীপ পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ঝন্টুলাল দাস বলেন, নবদ্বীপ হাসপাতালের সুপারের সহযোগিতায় এবং স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে হাসপাতাল থেকে কিছু বিল্ডিং ভাঙা রাবিশ ফেলে অস্থায়ী ভাবে রাস্তাটা করা হয়েছে। আগামী দিন যাতে এই রাস্তাটি আরও ভালোভাবে তৈরি করা যায় পুরসভার সঙ্গে কথা বলে সেই চেষ্টাই চালাচ্ছি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ