Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬

মুসলিম সাংবাদিকের বাড়ি ভেঙেছে প্রশাসন, জমি উপহার দিয়ে সম্প্রীতির নজির হিন্দু প্রতিবেশীর

প্রশাসনের কোপে চরম বিপদে পড়েছেন মুসলিম সাংবাদিক। ভাঙা পড়েছে বাড়ি। এই বিপদের সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী। বাড়ি তৈরির জন্য উপহার দিলেন জমি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমনই অন্যন্য নজির তৈরি হল জম্মুতে।

মুসলিম সাংবাদিকের বাড়ি ভেঙেছে প্রশাসন, জমি উপহার দিয়ে সম্প্রীতির নজির হিন্দু প্রতিবেশীর
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: প্রশাসনের কোপে চরম বিপদে পড়েছেন মুসলিম সাংবাদিক। ভাঙা পড়েছে বাড়ি। এই বিপদের সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী। বাড়ি তৈরির জন্য উপহার দিলেন জমি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমনই অন্যন্য নজির তৈরি হল জম্মুতে।

Advertisement

পেশায় সাংবাদিক। সত্যি খুঁজে বার করাই কাজ। নিষ্ঠা ভরে সেটাই করেন। তাতে অসুবিধা হয় অনেকের। এই দলে ক্ষমতাবান কেউ থাকলে দিতে হয় মাশুলও। ঠিক যেমনটা ঘটেছে জম্মুর আরফাজ আহমেদ দাইংয়ের ক্ষেত্রে। সম্প্রতি দখল করা জমিতে বাড়ি তৈরির অভিযোগে তাঁর বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। যদিও আরফাজের দাবি, প্রশাসন ইচ্ছা করেই এমনটা করেছে। কারণ পুলিশের এক বড়কর্তার নামে মাদক পাচার চক্রের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। আর সেই খবর করার ‘অপরাধে’ প্রশাসনের কোপে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু বাড়ি ভাঙা পড়ায় পরিবার নিয়ে কার্যত পথে বসার অবস্থা হয়েছিল তাঁর। এই সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন আরফাজের হিন্দু প্রতিবেশী কুলদীপ শর্মা। বাড়ি তৈরির জন্য আরফাজকে ৫ মারলা জমি উপহার হিসেবে দেন কুলদীপ। মারলা আসলে জমি পরিমাপের বিশেষ একক। যা মূলত পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহার করা হয়। ১ মারলা অর্থাৎ ২৭২.২৫ বর্গফুট। এই হিসাবে আরফাজকে মোট ১৩৬১.২৫ বর্গফুট জমি উপহার দিয়েছেন কুলদীপ। প্রশাসনের ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ কুলদীপ। তিনি বলেন, ‘ওরা ৩ মারলা জমিতে থাকা বাড়ি ভেঙেছে, আমি ৫ মারলা জমি উপহার দিয়েছি। এটা ভাঙলে ১০ মারলা জমি দেব।’ 
বিজেপির প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুলদীপ। তিনি জানান, বিভেদমূলক রাজনীতি জম্মুর সামাজিক কাঠামো ভাঙতে পারবে না। এই অঞ্চলের হিন্দু ও মুসলিমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভাই-ভাইয়ের মতো থাকে। কোনও রাজনৈতিক দল ঘৃণা বা ভয়ের মাধ্যমে তা বদলাতে পারবে না। তাঁর সঙ্গে সহমত অন্যান্য বাসিন্দারাও। হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদকে বহুদূরে সরিয়ে দিয়েছে এই ঘটনা। এতদিন সকলে একসঙ্গে ছিলাম, আগামীতেও থাকব, জানিয়েছেন কুলদীপ, আরফাজরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ