নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার দিতে সাত একর জমি কিনল মালদহ জেলা প্রশাসন। দ্রুতগতিতে কাজ এগচ্ছে এবং শীঘ্রই বাকি জমি কেনা হবে বলে দাবি প্রশাসনের। মালদহের ১৬০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উন্মুক্ত। যাকে ঘিরে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বারবার চলে রাজনৈতিক তরজা। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) দেবাহুতি ইন্দ্র জানান, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা জমি কেনার কাজ শেষ করতে পারব।
প্রশাসন সূত্রে খবর, কালিয়াচকের উন্মুক্ত সীমান্তে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন। হবিবপুর ব্লকের দু’টি মৌজায় জমি চিহ্নিত করা হয়ে গিয়েছে। সেখানে কেনা হয়েছে সাত একর জমি। হবিবপুর ব্লকের আরও দুই থেকে তিনটি মৌজায় জমি কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, হবিবপুর ব্লকের যে অঞ্চলে উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে, সেই জায়গার প্রায় পুরোটাই নীচু জমি। এর ফলে অক্টোবর মাসেও ওই সমস্ত এলাকায় বর্ষার জল জমে ছিল। এরপর নভেম্বর থেকে পুরোদমে এসআইআরের কাজ শুরু হয়। প্রশাসনের একটা বড় অংশের কর্মী সেই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে জমি চিহ্নিতকরণ ও কেনার কাজ চলে।
নিয়ম অনু্যায়ী সীমান্ত চিহ্নিত করে সিপিডব্লিউডিকে রিপোর্ট দেবে বিএসএফ। এরপর সিপিডব্লিউডি প্রয়োজনীয় জমির জন্য রাজ্যের কাছে আবেদন জানাবে। সংশ্লিষ্ট জমি চিহ্নিত করে ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে তা কেনার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট এবিষয়ে একটি রায় দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের ন’টি জেলায় ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করতে হবে রাজ্যকে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, তারপরেই দ্রুতগতিতে জমি চিহ্নিতকরণ ও কেনার কাজ চলছে। হাতে এখনও প্রায় দেড় মাস সময় আছে। কাজেই আশা করা যায়, ৩১ মার্চের মধ্যে জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা যাবে।
রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মধ্যে মালদহ অন্যতম। এখানে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার অংশই উন্মুক্ত। মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকেই উন্মুক্ত সীমান্ত সবথেকে দীর্ঘ। তা প্রায় ২৯ কিলোমিটার। বাকি প্রায় চার কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে কালিয়াচক ৩ ব্লকের বৈষ্ণবনগরে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়। তারপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জালনোট ও মাদকের কারবার, গরু পাচারের ঘটনাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। হবিবপুরেই গত কয়েকমাসে ধরা পড়ে বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী। তাদের সীমান্ত পার করতে সাহায্য করা এবং আশ্রয় দেওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজন ভারতীয়কে। মুলত, উন্মুক্ত সীমান্ত থাকার সুযোগই কাজে লাগানো হচ্ছে। তাই সীমান্ত সুরক্ষিত করতে সরকার উন্মুক্ত সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল জমি অধিগ্রহণ। এবার সেই সমস্যাও অনেকটা মিটে গিয়েছে। • নিজস্ব চিত্র।