নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশের পর বন্যা মোকাবিলায় বাঁধের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বসল প্রশাসন। বাঁধ নির্মাণে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে মেটানোর চেষ্টা করা হয় বৈঠক থেকে। মঙ্গলবার আরামবাগের মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে সেই বৈঠক হয়। তাতে ছিলেন আরামবাগের সংসদ সদস্য মিতালি বাগ, হুগলি জেলা পরিষদের কো-মেন্টর শেখ হায়দার আলি, খানাকুলের ওসি মুন্সি হামিদুল ইসলাম সহ প্রশাসন ও সেচদপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠকে অংশ নেন বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার কর্তারাও। সাংসদ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরামবাগ মহকুমায় সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও এসে বাঁধ মেরামতি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। তার জেরেই আমরা কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছি। নিয়মিত এরকম আলোচনা করে কাজগুলির উপর নজরদারি করা হবে। কো-মেন্টর বলেন, যেখানে মাটির সমস্যা ছিল, সেগুলি মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি নিয়ে সব স্তরকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্ৰুপ খোলা হচ্ছে। তাতে নিয়মিত তথ্য আদান প্রদানের জন্য বলেছি। উল্লেখ্য, ডিভিসির ছাড়া জলে আরামবাগ মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ, দামোদর প্রভৃতি নদীতে আচমকা জলস্ফীতি ঘটে। নিম্নচাপের বৃষ্টির ফলে বাঁকুড়ার দিক থেকে দ্বারকেশ্বরেও জলস্তর বেড়ে যায়। কিছু জায়গায় নদীগুলি প্রাথমিক বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলে। এমনকী, কিছু জায়গায় জল ঢুকে পড়ে। তার জেরে বর্ষার শুরুতেই বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা যায়। তবে বৃষ্টি থামায় ও ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় জলস্তর কিছুটা নেমে যায়। এমনকী, গত বছর ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন জায়গায় নদী বাঁধগুলি নিয়েও চিন্তায় পড়তে হয় সেচদপ্তরকে।। তবে এবার জলস্ফীতি হলেও কোথাও বাঁধও ভাঙেনি। সেচদপ্তরের হুগলি জেলার এগজিকিটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিং বলেন, আরামবাগ, খানাকুল, পুরশুড়া প্রভৃতি জায়গায় বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। সেগুলি প্রায় শেষের পথে। খানাকুলের ধান্যঘোরী খুঁটেপাড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। তারফলে রক্ষা পেয়েছে বাঁধগুলি। বর্তমানে সব জায়গাতেই দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর বাঁধ ভাঙলেও প্রশাসন সেখানে মেরামতির কাজে ঢিলেমি করায় বন্যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।



