নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: এমএএমসির প্রাক্তন আধিকারিক। টাউনশিপের ই-টাইপের পেল্লাই বাংলোয় থাকতেন। কয়েক মাস আগে ৪০লক্ষ টাকায় নিজের বসবাসের জন্য পাওয়া আবাসন এক রেল আধিকারিককে বিক্রি করে ‘ভোকাট্টা’। এমএএমসি টাউনশিপে গিয়ে কান পালতেই একথা শোনা যায়। তবে সস্তার ডিলও আছে। টাউনশিপের সি, ডি টাইপের কোয়ার্টার ২৫-৩০ লক্ষ টাকাতেও বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বি-টাইপের কোয়ার্টারের জন্য দাম আরও কম। এমএএমসি কোয়ার্টার বিক্রির দালাল ঘুরে বেড়াচ্ছে দুর্গাপুরে। এবার এই দালাল চক্র ভাঙতে কোমর বেঁধে নেমেছে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। ৪২৪৩টি কোয়ার্টারের বিশাল টাউনশিপের আবাসন ধরে সার্ভে শুরু হয়েছে।
এডিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’হাজারের বেশি কোয়ার্টারের সার্ভে হয়ে গিয়েছে। কোয়ার্টারগুলিতে কারা থাকছেন, কারা প্রাক্তন কর্মী, কারা বাহিরাগত সব তথ্যই নেওয়া হচ্ছে। দখলদার কারা তা নিশ্চিত করতেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। শুধু দখলদার উচ্ছেদই এডিডিএর লক্ষ্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বন্ধ কারখানার টাউনশিপটির পরিকাঠামোর উন্নয়ন করে আধুনিক করে তুলতে চায় তারা। মামড়াবাজার ঢেলে সাজার উদ্যোগ নিয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত বলেন, এমএএমসি টাউনশিপের কোনও অবৈধ দখলদার থাকতে দেওয়া হবে না। নিয়ম ভেঙে কোয়ার্টার কেনাবেচা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করা অবৈধ। আমরা সার্ভের কাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি টাউনশিপের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের অদূরে ৪৮৭একর জমিতে রয়েছে মাইনিং অ্যান্ড অ্যালায়েড মেশিনারি কর্পোরেশন(এমএএমসি) কারখানার টাউনশিপ। কারখানা চালু থাকার সময় এই অত্যাধুনিক টাউনশিপে হাসপাতাল থেকে বড় স্কুল ছিল। ২০০২সালে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। দু’দশকের বেশি বন্ধ থাকা কারখানার টাউনশিপের কঙ্কালসার দশা। এখন সেই টাউনশিপের কোয়ার্টার বেপরোয়াভাবে দখল চলছে। জানা গিয়েছে, এডিডিএ এই টাউনশিপ আধুনিকীকরণ করবে। এমনকী কারখানার প্রাক্তন শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে কোয়ার্টার স্থায়ীভাবে সর্বসাধারণের মধ্যে বরাদ্দ করবে। এই খবর পাওয়ার পরই কোয়াটার কব্জায় রাখতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। দালালরা ময়দানে নেমে পড়ছে। কখনও কোনও প্রাক্তন শ্রমিকের নাম করে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দিয়ে নতুন বাহিরগতকে কোয়ার্টার বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কখনও আবার প্রাক্তন শ্রমিক নিজেই বহিরাগতকে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিয়মে নিজের কোয়ার্টারের পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিচ্ছে। নতুন ক্রেতা কোয়ার্টার বা সামনের অংশ দখল করে ব্যবসা বাণিজ্যও চালু করে দিচ্ছে। সরকারি পরিবহণ সংস্থার এক প্রাক্তন চালক এমনভাবেই একটি কোয়ার্টার কিনে ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ। প্রাক্তন শ্রমিক অসীম চট্টোপাধ্যায়, স্বপন বিশ্বাসরা বলেন, এডিডিএর সার্ভে করে দখলদারদের উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাব। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দখলদারদের কোয়ার্টারে হানা না দিয়ে প্রাক্তন শ্রমিকদের কোয়ার্টারেই সার্ভে হচ্ছে। বিষয়টি দেখার জন্য শীর্ষকর্তাদের অনুরোধ করব।-নিজস্ব চিত্র