সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফোন পেয়ে টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তারপর খোঁজ মেলেনি। দু’দিন পর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাগলা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার ধার থেকে থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার হল। মৃতের নাম নুর ইসলাম শেখ ওরফে সাদ্দাম(২৯)। বাড়ি মুরারই থানার বাহাদুরপুর গ্রামের বাগানপাড়ায়। শনিবার সকালে ঘাস ও লতাপাতায় ঢাকা তাঁর ফুলেফেঁপে ওঠা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃতদেহের গলায় বেল্ট জড়ানো ছিল। বাঁ হাত ছিল ভাঙা। মুখমণ্ডল ও শরীরের একাংশ অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁকে খুন করে পরিচয় গোপন করতে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, অবিবাহতি সাদ্দামের গ্রামেই মোবাইল রিপেয়ারিং ও সাইবার ক্যাফে রয়েছে। গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকরা তাঁকে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকা তুলে তিনি শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিতেন। এছাড়া অনলাইনে আরও কাজকর্ম করতেন। টাকা ধারও দিতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ গ্রামে বসা মেলা দেখে পাঁপড় কিনে বাড়ি ফেরেন। মৃতের বাবা কদম রসুল বলেন, মেলা থেকে ফিরে ছেলে ঘরে বসেছিল। রাত ১০টা নাগাদ ওর মোবাইলে একটি ফোন আসে। আমি ওর পাশেই ছিলাম। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, আমি ব্রিজের কাছে রয়েছি। দেনাপাওনা যা আছে হিসেব করে নিয়ে আসতে বলে। সঙ্গে কিছু টাকা নিয়ে আসার কথাও জানায়। এরপরই ছেলে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যায়। রাত হয়ে গেলেও ছেলে না ফেরায় ভেবেছিলাম, গল্প করছে। এরই মধ্যে আমাদের স্বামী ও স্ত্রীর চোখ লেগে যায়। সকালেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি।



