নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: খাতড়ায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির স্বামীকে মারধরের ঘটনার রেশ এসে পড়ল বাঁকুড়া শহরে। শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত বাঁকুড়া শহরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির সঙ্গে পুলিসের টানাপোড়েনের উত্তাপ বাঁকুড়ার দাবদাহকেও ছাড়িয়ে যায়। মন্ত্রীর স্বামীকে মারধরের অভিযোগে শনিবারই পাঁচ বিজেপি কর্মীকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় জড়িত বাকিরা বাঁকুড়া জেলা বিজেপি কার্যালয়ে লুকিয়ে রয়েছে সন্দেহে রাতে পুলিস অভিযান চালায়। ওই সময়ে বিজেপি নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পুলিসের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয়। বিজেপির অভিযোগ, অভিযান চলাকালীন তালা ভাঙার পাশাপাশি পুলিস কর্মীরা চেয়ার টেবিলও ভাঙচুর করে। পরে বাধা পেয়ে পুলিস সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা এদিন দুপুরে বাঁকুড়া সদর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। বেশকিছুক্ষণ ধরে ওই বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভের জেরে শহরের লাইফলাইন বলে পরিচিত ফিডার রোড অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তার জেরে পথচারী ও বাসযাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
বাঁকুড়ার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, জামিন অযোগ্য ধারা রুজু হওয়ায় অভিযুক্তদের কয়েকজনকে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট তথ্যে ভিত্তিতেই আমরা অভিযান চালিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপি নেতাকর্মীদের বাধায় অভিযান সফল হয়নি। পুলিসকে বিজেপি আটকে দেওয়ায় অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে পড়ে। আমরা রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পার্টি অফিসের ভিতরে এসি চলতে দেখি। দরজার বাইরে অভিযুক্তদের চটিও খুলে রাখা ছিল। ফলে বিজেপি অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পার্টি অফিসে দলের অন্য নেতাকর্মীরাও রাতে থাকতে পারেন। অভিযুক্তদের থাকার ব্যাপারে তথ্য থাকলে পুলিস আমাদের জানিয়ে গেটের তালা ভাঙতে পারত। তা পুলিস করেনি। পুলিসের কাছে সার্চ ওয়ারেন্টও ছিল না। ফলে একটি গেট খোলার পর দ্বিতীয় গেটের তালা আমরা পুলিসকে খুলতে দিইনি। এমনিতেই মিথ্যা মামলায় পুলিস আমাদের দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার উপর আমাদের না জানিয়ে জেলা পার্টি অফিসে হানা দিয়েছিল। ওইসব ঘটনার প্রতিবাদে আমরা এদিন আন্দোলন শুরু করেছি। পুলিস না থামলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, অভিযুক্তদের ধরতে কোনও সার্চ ওয়ারেন্ট লাগে না। পুলিস আইন মেনে সেখানে অভিযান চালিয়েছিল। অভিযানে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিসের বিরুদ্ধে চেয়ার, টেবিল ভাঙচুরের অভিযোগ ঠিক নয়। পুরো অভিযানের ভিডিওগ্রাফি করে রাখা আছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে মুদিখানার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর স্বামী বিজেপির হাতে আক্রান্ত হন বলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন। তিনি খাতড়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। লাঠি, বাঁশ নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক মন্ত্রীর স্বামীকে ঘিরে ধরে পেটানো হয় বলে তৃণমূলের অভিযোগ। যদিও বিজেপি পাল্টা ওই ঘটনাকে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বলে দাবি করেছে। পুলিসের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে খাতড়া শান্ত রয়েছে। এলাকাকে কোনওভাবেই অশান্ত হতে দেওয়া যাবে না। তারজন্য প্রয়োজনে কঠোর বলপ্রয়োগ করা হবে বলেও পুলিস আধিকারিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।