নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির ঘটনায় অভিযুক্তকে বিডিও অফিসে তলব। তদন্ত শুরু প্রশাসনের। নিজেকে হাতুড়ে দাবি করা জলপাইগুড়ি সদরের গড়ালবাড়ি পঞ্চায়েতের শোবারহাটের বাসিন্দা ওই অভিযুক্তকে আপাতত তাঁর ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের তরফে। এদিকে, ওই অভিযুক্ত এদিন বিডিও অফিসে এসে হাতজোড় করে তাঁর ‘ভুল’ স্বীকার করে নেন। যদিও বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নিতে নারাজ প্রশাসন। কারণ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি অবশ্য এদিন নিজেকে হাতুড়ে দাবি করে প্রশাসনের আধিকারিকদের সামনে ১৯৯৫ সালে ইস্যু করা গ্রামীণ চিকিৎসকের শংসাপত্র দাখিল করেন।
যদিও তাঁর ওই শংসাপত্র আদৌও আসল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি সদরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি একটি আরএমপি সার্টিফিকেট দিয়েছেন। ওই শংসাপত্র যদি আসল হয়, তারপরও তিনি রোগীদের যে কোনও ওষুধ দিতে পারেন না। কিন্তু তাঁর দোকানে সেসব ওষুধও মিলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গিয়েছে। তাছাড়া ওষুধের দোকান চালাতে গেলে ড্রাগ কন্ট্রোলের কাছ থেকে যে সার্টিফিকেট নিতে হয়, তা দেখাতে পারেননি তিনি। ট্রেড লাইসেন্সের একটি কপি দিয়েছেন। এখন সমস্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ পেয়ে দিনকয়েক আগে জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও মিহির কর্মকার গড়ালবাড়ি পঞ্চায়েতের শোবারহাট এলাকায় ওই ব্যক্তির দোকানে যান। দোকান থেকে প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এরপরই ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে ওই দোকানে তালা মেরে দেওয়া হয়। এদিন বিষয়টি নিয়ে অফিসে বৈঠক ডাকেন বিডিও। সেখানে ছিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, ড্রাগ কন্ট্রোল ইন্সপেক্টর, ফুড সেফ্টি দপ্তরের আধিকারিক এবং পুলিস। অভিযুক্তকেও তলব করা হয় এদিন। তাঁর কাছে নথিপত্র চাওয়া হয়। কিছু নথি তিনি জমা দেন। সেগুলি যাচাই শুরু করেছে প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র