নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে শ্লীলতাহানির ঘটনার অভিযোগ থানায় জমা পড়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় দু’দিন। অথচ এখনও গ্রেপ্তার তো দূর, অভিযুক্তকে চিহ্নিতই করে উঠতে পারল না পুলিশ। সোমবার পুলিশের এক কর্তা জানান, অভিযুক্তকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে। আইন মেনে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন বোলপুরের বাসিন্দারা। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের লেবার রুমে এক রোগিণীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, সন্তান প্রসবের জন্য গত ৭অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হন ওই প্রসূতি। ১০অক্টোবর রাতে তাঁকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগিণীর অভিযোগ, ওইদিন রাতে লেবার রুমে হাসপাতালের এক কর্মী তাঁর শ্লীলতাহানি করে। তাঁকে কুরুচিকর ভাষায় বিভিন্ন কথা বলে। কুপ্রস্তাবও দেয়। এমনকী, রোগিণীর গোপনাঙ্গে হাত দেয় ওই কর্মী। রবিবার রোগিণীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। সেই সময় তিনি বিষয়টি হাসপাতালের সুপারকে জানান। পাশাপাশি শান্তিনিকেতন থানাতেও ঘটনার লিখিত অভিযোগ করে রোগিণীর পরিবার। তারপর থেকেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হতে থাকে। কিন্তু অভিযোগ জমা পড়ার দু’দিন কেটে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিন সদস্যের একটি দল তৈরি করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে পুলিশও। রবিবার হাসপাতালের সুপার দিবাকর সর্দার জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অভিযোগপত্রে অবশ্য রোগিণী জানিয়েছিলেন, কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁর নাম তিনি জানেন না। তবে দেখলে চিনতে পারবেন। রোগিণীর মা বলেন, আমি অভিযুক্তকে চিনি। আমার মেয়ে চিনিয়ে দিয়েছে। অথচ অভিযোগ, এখনও অভিযুক্তকে চিহ্নিতই করতে পারেনি পুলিশ। হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এনিয়ে হাসপাতালের সুপারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। বীরভূমের জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষ বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনার সবদিক তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে। অপরাধী একবার চিহ্নিত হলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।
এনিয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, অভিযোগকারিণী যখন বলছেন তিনি অভিযুক্তকে দেখলে চিনতে পারবেন, তারপরও কেন তদন্তে দেরি হচ্ছে? অভিযুক্তকে কোনওভাবে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে না তো? সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, আসলে অভিযুক্ত শাসকদলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে বলেই পুলিশ নিষ্ক্রিয়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।