নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ ঢেকে বাড়িতে ঢুকে একাকী বৃদ্ধকে মারধর করে ল্যাপটপ, মোবাইল সহ বিভিন্ন জিনিস হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রবীন্দ্র সরোবর থানার কাঁকুলিয়া রোডে। তদন্তে নেমে বৃদ্ধকে ম্যাসাজ করতে আসা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাম বিনোদ রায়। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যুবক এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ। বাকি সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অন্য অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, কাঁকুলিয়ার বাসিন্দা ঋত্বিক ঠাকুর শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। ম্যাসাজ করানোর জন্য একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রেখেছিলেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সে আসত। সে হাজার চল্লিশ টাকা চেয়েছিল ওই বৃদ্ধের কাছ থেকে। কিন্তু ঋত্বিকবাবু তা দিতে রাজি হননি। তারপরই সে পরিকল্পনা করে, বৃদ্ধের টাকাপয়সা ও অন্য সামগ্রী লুট করবে। সেইমতো ২ সেপ্টম্বর ম্যাসাজ করে বাড়ি চলে যায়। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ফের হাজির হয়। সঙ্গে ছিল এক বন্ধু। মুখ ঢেকে তারা ঢুকে পড়ে বাড়িতে। ঋত্বিকবাবুর ঘরে পৌঁছে তাঁকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। বৃদ্ধের মুখ বেঁধে দেওয়া হয়। তাঁর কাছে থাকা ল্যাপটপ, আইফোন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে পালায় বলে অভিযোগ। উল্টো দিকের এক মহিলা দেখেন, ঋত্বিকবাবুর মুখে সেলোটেপ বাঁধা। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশে খবর দেন। রবীন্দ্র সরোবর থানার অফিসাররা এলে তিনি সমস্ত ঘটনার কথা জানান পুলিশকে। তার ভিত্তিতে লুটের মামলা রুজু হয়।
ওই বাড়িতে যারা আসত, তাদের তালিকা তৈরি করে থানা। দেখা যায়, এক যুবক রোজ ম্যাসাজ করতে আসে। ঘটনার দিন রাতে তার টাওয়ার লোকেশন বৃদ্ধের বাড়িতে পাওয়া যায়। যুবককে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘ জেরা শুরু করে লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখার অফিসাররা। দীর্ঘ জেরায় লুটের কথা স্বীকার করে যুবক। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে উদ্ধার হয় ল্যাপটপ।