সংবাদদাতা, কালনা: আর দু’দিন বাদেই ১ মাঘ কালনায় ঘুড়ির উৎসব। এখন থেকেই আকাশে দেখা মিলছে পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গা। ঘুড়ির দোকানগুলিতে ভিড় বাড়ছে শিশু, কিশোর, যুবকদের। তবে, এই উৎসবের আনন্দই অনেক সময় নিরানন্দে পরিণত হচ্ছে। ধারালো চীনা মাঞ্জায় জখম হচ্ছে মানুষ থেকে পশুপাখি। পুলিশ অভিযান চালালেও কালনার বাজারগুলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে এই নিষিদ্ধ মাঞ্জা। ঘুড়ি উৎসব একটি প্রাচীন বিনোদনের মাধ্যম। এক সময় সুতো মাঞ্জা করে ঘুড়ি ওড়ানোর চল ছিল। এখন রেডিমেড সুতো দখল করেছে বাজার। ঘুড়িতেও এসেছে রকমারি নুতন নাম। টম অ্যান্ড জেরি, স্পাইডারম্যান, মোটু-পাতলু, ডোরেমন প্রভৃতি কার্টুনের ঘুড়ি মিলছে দোকানে। ছোট ছোট বাচ্চাদের কার্টুন ঘুড়ি বেশি পছন্দ। বেরেলি, পাণ্ডার পরিবর্তে সুতোর বাজার দখলে ভাগ বসাচ্ছে নিষিদ্ধ চীনা মাঞ্জা। সাধারণ দেশীয় রেডিমেড মাঞ্জা সুতোর থেকে চীনা মাঞ্জা অনেকটাই শক্ত ও দামে কম থাকায় কিশোর ও যুবদের চায়না মাঞ্জার প্রতি ঝোঁক অনেকটাই বেশি। চায়না মাঞ্জা নিষিদ্ধ হলেও চাহিদা থাকায় কালনা শহর ও শহরতলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে কালনা থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে শ্বাসপুর দিঘিরপাড় ও তালবোনা এলাকার ঘুড়ির দোকান থেকে প্রচুর চীনা মাঞ্জা বাজেয়াপ্ত করেছে।প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর থেকে ঘুড়ির বাজারে দাপট বেড়েছে চিনা মাঞ্জার। দেশীয় সুতোর পরিবর্তে শক্ত ধারালো চীনা মাঞ্জাই এখনও বেশি বিক্রি হচ্ছে। যা থেকেই অনেক সময় বাইক, সাইকেল আরোহী থেকে সাধারণ মানুষের গলায় জড়িয়ে জখম করছে। সেই সঙ্গে পাখি ও প্রাণীদের পায়ে, ডানায় জড়িয়ে তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এর বিরুদ্ধে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা। সরকারিভাবে নিষিদ্ধও করা হয়েছে এই মাঞ্জা। কিন্তু তবুও দেদার বিক্রি হচ্ছে চীনা মাঞ্জা। পুলিশ অভিযান চালালেও কোনওভাবেই বিক্রি আটকানো যাচ্ছে না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটেছে।ঘুড়ি বিক্রেতা চিত্ত সরকার বলেন, অন্যবারের থেকে এবার ঘুড়ি বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। ঘুড়ির দাম বাড়ায় লাভ কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছি তাই ব্যবসা ছাড়তে পারছি না। চায়না মাঞ্জা বিক্রি করেন না? উত্তরে তিনি জানান, ঘুড়ি বিক্রিতে জোর দিয়েছি। চায়না মাঞ্জা নয়, দেশীয় সুতো বিক্রি করি। কিছু অসাধু ঘুড়ি বিক্রিতাদের জন্য ভালো দোকানদারদের বদনাম হচ্ছে।



