Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রং খেলার আনন্দ বদলে গেল বিষাদে, গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারাল দাদু-নাতনি

দোল উত্সবের দিন পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দাদু-নাতনির

রং খেলার আনন্দ বদলে গেল বিষাদে, গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারাল দাদু-নাতনি
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: দোল উত্সবের দিন পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দাদু-নাতনির। রংয়ের উত্সব হল বিবর্ণ। কান্নার রোল পরিবারে। শনিবার ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোহিতনগর সংলগ্ন কৃষ্ণমোড় এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃত সুকু পাল(৫৫) এবং রাধিকা রায়(৪) সম্পর্কে দাদু নাতনি। সুকুবাবু পালপাড়ার বাসিন্দা। তিনি টোটো চালাতেন। ছোট্ট রাধিকা পাঙ্গা বটতলায় থাকত। দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণ চলে যাওয়ায় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ক্ষোভে তাঁরা ঝা বাড়ি মোড় অবরোধ করেন। উত্সবের দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনা সামাল দিতে কোতয়ালি থানার বিশাল পুলিস বাহিনীকে আসতে হয়। যদিও অবরোধ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিস।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সুকু পাল মুরগীর মাংস নিয়ে টোটো চালিয়ে তাঁর মেয়ের বাড়িতে যান। পাঙ্গা বটতলার মেয়ের বাড়ি থেকে থেকে নাতনি রাধিকাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন মোহিতনগরের পালপাড়ায়। সেখানে নাতনিকে নিয়ে রং খেলেন দাদু সুকু। নাতনির জন্য ভালোমন্দ খাবারের ব্যবস্থাও করেছিলেন। নাতনিকে নিয়ে রং খেলার দিন ভালোই কাটছিল তাঁর। পরে খাওয়াদাওয়া সেড়ে নাতনিকে নিয়ে টোটো চালিয়ে পাঙ্গা  বটতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। তারপরই ঘটে বিপত্তি। কৃষ্ণ মোড় এলাকায় একটি গাড়ি সজোরে এসে ধাক্কা মারলে সুকু পালের টোটো দুমড়ে মুচড়ে যায়। দাদু–নাতনি দুজনই গুরুতর জখম হন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধীনস্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর শুনে মৃত সুকুবাবুর স্ত্রীর ব্রেইন স্ট্রোক করে। তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। 
এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রাজ্যসড়কে মোহিতনগরের ঝা বাড়ির মোড়ে পথ অবরোধ করে। গাড়ির গতি কমানোর জন্য তারা স্পিড ব্রেকার বসানোর দাবি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিস বাহিনী। প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধ চলে। এর জেরে যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিসের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায়। তবে স্পিড ব্রেকার বসানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়। 
এই বিষয়ে জলপাইগুড়ির আইসি সঞ্জয় দত্ত জানান, পথ দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়রা জমায়েত করেছিলেন। যদিও তাঁর দাবি পথ অবরোধ হয়নি। সুকু পাল এবং রাধিকা রায়কে চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ