সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাড়গ্রাম-২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চত্বরে প্রায় চার বছর ধরে খোলা আকাশের নীচে পড়ে রয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শববাহী গাড়ি। অযত্ন আর অবহেলায় একমাত্র সেই সরকারি সম্পত্তি এখন নষ্টের পথে। অথচ স্বর্গযানের প্রায় স্বর্গপ্রাপ্তি নিয়ে হেলদোল নেই প্রশাসনের।
জানা গিয়েছে, কোভিড কালে হাসন কেন্দ্রের তৎকালীন কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ উন্নয়ন তহবিলের টাকায় শববাহী গাড়িটি কিনে রামপুরহাট-২ পঞ্চায়েত সমিতিকে হস্তান্তর করেন। পঞ্চায়েত সমিতির ড্রাইভার রেখে পরিষেবা দিচ্ছিল। কিন্তু কয়েকমাস চলার পর কর্মকর্তাদের অযত্ন ও অবহেলায় তা আজ পড়ে রয়েছে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চত্বরে। সেটিকে ঘিরে লতাপাতা গজিয়ে গেছে। অথচ এলাকায় কেউ মারা গেলে শববাহী যানের খোঁজ পড়ে। তা সত্ত্বেও সরকারি এই স্বর্গযানটিকে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই নিয়ে অনেকেই যানটির ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে ব্লক প্রশাসন। এলাকার বাসিন্দা অরূপ দাস সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে বলছেন, বেশিদিনের নয় স্বর্গযানটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে যানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। লতাপাতায় ঢাকা পড়েছে নতুন গাড়িটি। এদিকে এলাকার কেউ মারা গেলে মোটা টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে সৎকার করতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এই গাড়িটি চালানো হলে অনেক কম টাকায় মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া যেত। কী কারণে সরকারি অর্থে কেনা গাড়িটির এই অবস্থা, তা জানা নেই।
কেউ আবার বলছেন, স্বর্গযানটির গায়ে যেহেতু প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের নাম লেখা আছে, তাই গাড়িটির চাকা গড়াচ্ছে না। ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই গাড়ি না চালিয়ে সরকারি অর্থ নষ্ট করছেন শাসকদলের নেতারা।
যদিও এব্যাপারে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, কোভিডের সময় স্বর্গযানটি মৃতদেহ বহন করেছিল। পরে বিডিও অফিসে রাখার জায়গা না থাকায় স্বর্গযানটি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চত্বরে রেখে যায়। গাড়িটি আমাদের হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বর্তমান তৃণমূল নেতা অরূপকুমার দাস বলেন, কোভিডকালে কংগ্রেস বিধায়ক গাড়িটি দিয়েছিলেন। ড্রাইভার, তেলের খরচ নিয়ে গাড়িটি কিছুদিন চালিয়েছিলাম। পরে সেভাবে কেউ গাড়িটি নিতেন না। তবুও আমি স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ থাকাকালীন গাড়িটি চালিয়েছি। বর্তমানে গাড়িটি পড়েই রয়েছে। যাতে সেটি মেরামত করে চালানো হয়, সেব্যাপারে আবেদন জানাচ্ছি। কিছু মানুষের তো উপকার হবে।
অন্যদিকে বিডিও রামপুরহাট-২ ব্লকের বিডিও অর্ক দত্ত বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি। মিল্টন রশিদ বলেন, সরকারের টাকায় কেনা, সরকারের লোকই নষ্ট করছে। সেই সময় মানুষের দাবি মেনেই বিধায়ক কোটায় স্বর্গযানটি কিনে পঞ্চায়েত সমিতিকে দেওয়া হয়েছিল। কী কারণে মানুষের প্রয়োজনে গাড়িটি ব্যবহার না করে নষ্ট করা হচ্ছে, সেটা বলতে পারব না। তবে যদি আমার নাম লেখা থাকা নিয়ে কোনও আপত্তি থাকে, তাহলে তা মুছে তৃণমূলের নাম লিখে দিক। কিন্তু গাড়িটি চলুক। অনুমতি দিলে আমি শিল্পী নিয়ে গিয়ে গাড়িতে ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ লিখে দিয়ে আসব।
এ ব্যাপারে পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সাহারা মণ্ডল বলেন, জনস্বাস্থ্যের মিটিংয়ে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কে দেখভাল করবে, দায়িত্ব নিয়ে চালাবে, সেটা পেয়ে গেলেই প্রশাসনিক ভাবে যা করার, সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বর্গযানটি তাকে চালাতে দিয়ে দেব। -নিজস্ব চিত্র