Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওড়িশায় নির্যাতিত শ্রমিকরা শিবিরে, তমলুকে ‘আমাদের পাড়া’য় নাম নথিভুক্ত

সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনির্বাণ কোলে

ওড়িশায় নির্যাতিত শ্রমিকরা শিবিরে, তমলুকে ‘আমাদের পাড়া’য় নাম নথিভুক্ত
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাংলায় কথা বলার কারণে এক মাস আগে ওড়িশায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তমলুকের বাড়ি ফিরেছেন শেখ ওমর ফারুখ, শেখ সাইফুল ও শেখ মফিজুল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত শ্রমশ্রী প্রকল্পে ভরসা রেখে বৃহস্পতিবার তাঁরা তমলুক শহরে ৪নম্বর ওয়ার্ডে সুকান্ত প্রাইমারি স্কুলে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করলেন। ঘটনাচক্রে এদিন ওই ক্যাম্প পরিদর্শনে যান রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব বিনোদ কুমার। সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) অনির্বাণ কোলে। এছাড়াও বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

Advertisement

এদিন ক্যাম্পে ফারুখদের সঙ্গে দেখা করে রাজ্য সরকারের শিক্ষাদপ্তরের প্রধান সচিব বলেন, ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সব রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এজন্য নাম নথিভুক্ত করতে হবে। আগ্রহীদের এধরনের ক্যাম্পে এসে নাম নথিভুক্তির আবেদন জানানো হচ্ছে। নন্দকুমার, তমলুকে ক্যাম্প ভিজিট করলাম। স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ১লক্ষ ৭২হাজার। তাঁরা দেশের নানা প্রান্তে কাজকর্ম করেন। কয়েকদিন আগে বাংলাভাষী পরিযায়ীদের বাংলাদেশি সন্দেহে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। ওড়িশা থেকে গুজরাত নানা রাজ্যে এই ঘটনা ঘটতে থাকে। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় ৪০জনকে শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহ ওড়িশায় আটকে রাখা হয়। পুলিস ও প্রশাসনের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট মুখ্যসচিবের মাধ্যমে ওড়িশার মুখ্য঩সচিবের কাছে পৌঁছনোর পর তাঁদের ছাড়া হয়। তবে, শারীরিক হেনস্তার কারণে তাঁদের অনেকে ফিরে এসেছেন। তাঁরা আর ওড়িশায় ফিরে যেতে চান না। 
ভিনরাজ্য থেকে আসা পরিযায়ীদের পাশে দাঁড়াতে মুখ্যমন্ত্রী নতুন প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। তাঁদের সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে সন্তানদের পড়াশোনা সবই সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। এজন্য পোর্টালে নাম তোলা প্রয়োজন। ওই ঘোষণার পরই পূর্ব মেদিনীপুরে পরিযায়ী শ্রমিকরা ক্যাম্পে ভিড় করছেন। 
এখনও পর্যন্ত ২০০জনের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ‘শ্রমশ্রী’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। নানাকারণে তাঁরা অন্য রাজ্যে নিজেদের কর্মস্থল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এদিন বাড়পদুমবসানের ২২৪নম্বর বুথের শেখ ওমর ফারুখ বলেন, আমরা ওড়িশায় ছিলাম। বাংলাদেশি সন্দেহে আমাদের উপর অত্যাচার হয়। বাধ্য হয়ে ওড়িশা ছেড়ে চলে আসি। আর ওই রাজ্যে ফিরে যেতে চাই না। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জন্য যে প্রকল্প ঘোষণা করেছেন তাতে পূর্ণ আস্থা রেখেই ক্যাম্পে এসেছি।
জেলাশাসক বলেন, আমাদের জেলায় ১লক্ষ ৭২হাজার নথিভুক্ত পরিযায়ী শ্রমিক আছেন। তাঁদের মধ্যে যাঁরা শ্রমশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী তাঁদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। ইতিমধ্যে জেলাজুড়ে অনেকে নাম তুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের খাদ্যসাথী থেকে স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধু সহ রাজ্য সরকারের সব ধরনের স্কিমের সুবিধা দেওয়া হবে। তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও রাজ্য করবে। 
এদিন সকালে নন্দকুমার ব্লকের ভাণ্ডার জালপাই গ্রামে ক্যাম্প পরিদর্শনে যান শিক্ষাদপ্তরের প্রধান সচিব সহ জেলা প্রশাসনের অফিসাররা। সেখান থেকে ফিরে তাঁরা তমলুক শহরে ক্যাম্প ভিজিট করেন। জেলাশাসক বলেন, এলাকার সমস্যা নথিভুক্তির ক্ষেত্রে মহিলাদের মতামতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। কাজ শুরুর সময় বুথভিত্তিক নজরদারি কমিটি গড়া হবে। সেই কমিটিতে মহিলাদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ