Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাস যোজনার তালিকায় নাম উঠল বিজেপি নেতার

আবাস যোজনার তালিকায় নাম উঠল বিজেপি নেতার
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করে ‘বাংলা আবাস যোজনা’য় ঘর পেলেন  বিজেপি নেতা। যা নিয়ে মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতে চর্চা চলছে। অন্যদিকে, একে হাতিয়ার করেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানবিক। রং দেখে রাজনীতি করেন না। পঞ্চায়েত অফিস সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে।  
Advertisement
কিন্তু রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা যেখানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে বরাদ্দ আটকে দিয়েছেন, সেখানে বিজেপি নেতার ঘর পাওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মশকরা করতে ছাড়ছেন না। সুরেন্দ্র বর্মন নামে ওই বিজেপি নেতার দাবি, আমার থাকার ঘর নেই। ‘দিদিকে বলো’ ফোন নম্বরে ফোন করে আবাস তালিকায় নাম তুলেছি। আধিকারিকরা এসে তদন্ত করে গিয়েছেন। বিরোধিতা করলেও বরাদ্দ ঘর নিতে আপত্তি নেই। 
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে বরাদ্দ আটকে দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। গ্রামে গ্রামে এসেছিল কেন্দ্রীয় টিম। তারপরও আবাসের বরাদ্দ দেয়নি দিল্লি। মুখ্যমন্ত্রী বাংলার আবাস যোজনার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এনিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের সমীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত হওয়া তালিকা ধরে উপভোক্তাদের এ মাসেই টাকা দেবে রাজ্য সরকার। মাথাভাঙার পচাগড় পঞ্চায়েত এলাকায় শতাধিক বাসিন্দার আবাস যোজনার ঘরের তালিকায় নাম রয়েছে। 
বিজেপির মণ্ডল সহ সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মন বলেন, আমি কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাই। সক্রিয় বিজেপি করি ঠিকই, কিন্তু সরকারি সুবিধা নিতে আমার কোনও আপত্তি নেই। দিদিকে বলোতে ফোন করে আবাস তালিকায় নাম তুলেছি। চূড়ান্ত তালিকায় নাম আছে। ঘর পেলে বাড়ির সমস্যা মিটে যাবে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের বিক্রম দত্ত বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। তিনি রাজনীতির রং দেখেন না। সবাই যাতে সরকারি সুবিধা পায় সেটাই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ। ওই বিজেপি নেতা ঘর পাওয়ার যোগ্য, তাই এনিয়ে আমাদেরও কোনও আপত্তি নেই। এনিয়ে প্রচার করব। সাধারণ মানুষ রাজ্যের উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। 
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ বর্মন বলেন, উন্নয়ন সকলের জন্যই। তৃণমূল সরকার উন্নয়ন তো শুধু তাঁদের কর্মীদের জন্য করছেন না। আমাদের কর্মী বা নেতা হলে সরকারি সুবিধা নিতে পারবে না, এটা তো হয় না। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কারণেই নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার নিয়ম না মানলে এমনটা তো হবেই।
সম্পর্কিত সংবাদ