Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবহাওয়া বদলে কাহিল শিশুরা, জ্বর-সর্দি নিয়ে হাসপাতালে ভিড়

আবহাওয়া বদলে কাহিল শিশুরা, জ্বর-সর্দি নিয়ে হাসপাতালে ভিড়
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আবহাওয়া পরিবর্তনে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ। বাড়াবাড়ি হলেই দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্ট। অনেকের আবার জ্বরের সঙ্গে সারা গায়ে র‌্যাশ ভরে যাচ্ছে। গলায় সংক্রমণ হচ্ছে। জ্বর কমলেও নাক দিয়ে জল পড়া কিংবা কাশি থেকে যাচ্ছে দু’সপ্তাহ পর্যন্ত। সবমিলিয়ে রীতিমতো কাহিল হয়ে পড়ছে শিশুরা। ভিড় উপচে পড়ছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে।
Advertisement
চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রেসপিরেটরি সিনসাইটাল ভাইরাসের (আরএসভি) উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে থাকছে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। কিছু ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ মিলছে। মাথাচাড়া দিয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা। এখনও ডেঙ্গুর আশঙ্কা রয়েছে। তারই মধ্যে ভাইরাসের দাপাদাপিতে ভয় ধরাচ্ছে অভিভাবকদের মনেও। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের আউটডোরে দিনে গড়ে এমন দু’শো শিশুকে দেখতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ইন্ডোরে ভর্তি হচ্ছে অন্তত ২৫-৩০টি শিশু।
অভিযোগ, অনেকে চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িতে ফেলে রাখছেন শিশুকে। এতে দ্রুত অবস্থার অবনতি হচ্ছে আক্রান্ত শিশুদের। বুকে কফ জমে যাচ্ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে একরত্তিদের। সদ্যোজাত থেকে চার-পাঁচ বছর বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তার বেশি বয়সি শিশুরাও যে ঠান্ডা-গরমে ভুগছে না, তা নয়। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এটিকে শীতের শুরুর সময়ের সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করলে চলবে না। মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, এসময় শিশুরা সর্দি-কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হয়। অনেক শিশুকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়। সেকারণে শিশু বিভাগের পাশাপাশি মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্ক করা হয়েছে। প্যাথলজি বিভাগকে বলা হয়েছে, দ্রুত যাতে রিপোর্ট দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্রতীশঙ্কর পাল বলেন, আউটডোরে প্রতিদিন দেড়শো থেকে দু’শো শিশু জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে আসছে। এদের মধ্যে অনেককে ভর্তি করাতে হচ্ছে। দিনে ২০-২৫ জন শিশু তো ভর্তি হচ্ছেই।
জলপাইগুড়ি সদরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রীতম বসু বলেন, গ্রামীণ হাসপাতালের পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকদের বলা হয়েছে, জ্বর, সর্দি-কাশি ও বুকে টান, বুকের ভিতর ঘড়ঘড় শব্দ, এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে এলে তাকে ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে। যদি মনে হয়, হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দরকার, সেক্ষেত্রে দ্রুত তার ভর্তির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তবে আমরা চার বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি রাখার ঝুঁকি নিচ্ছি না। প্রাথমিক চিকিৎসা করেই সেই শিশুকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ধূপগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অঙ্কুর চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপুজোর পর থেকে কালীপুজো পর্যন্ত প্রচুর শিশু জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছিল। এখন সংখ্যাটা একটু কমেছে। কিন্তু তারপরও অনেক শিশুই হাসপাতালে আসছে।
সম্পর্কিত সংবাদ