নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটে চিড়। দিল্লি, গুজরাত, পাঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখে কংগ্রেসে অ্যালার্জি আম আদমি পার্টির। তাই তারা জানিয়ে দিয়েছে, ইন্ডিয়া জোটে আর নেই। ফলে আজ শনিবার কংগ্রেসের ডাকা বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অনলাইন বৈঠকেও আপ থাকছে না। অধিবেশনের আগেই এভাবে জোটে ফাটল ধরায় উদ্বিগ্ন সোনিয়া-রাহুল গান্ধী। আপের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিং চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, ‘এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে নাকি? কংগ্রেসের অবস্থানই তো ধোঁয়াশার। কখনও কেজরিওয়ালের সমালোচনা করছেন। কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কখনও অখিলেশ যাদবের। চব্বিশের নির্বাচনের পর ইন্ডিয়া জোটের শক্তি বৃদ্ধির সামান্য মাত্র কোনও উদ্যোগও নেয়নি কংগ্রেস। তাই ইন্ডিয়া জোটে আমরা নেই।’
আপের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পরে তাই তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো দলকে কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না কংগ্রেস। সেই কারণেই অনলাইন বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূলকে অনুরোধ করা হয় বলেই রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তারই জবাবে তৃণমূল জানিয়ে দিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার সন্ধে সাতটায় কলকাতা থেকে অনলাইনে ইন্ডিয়া জোটের ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেবেন। ইন্ডিয়া জোটের এই বৈঠকের ঠিক তিনদিন আগে কলকাতার রাজপথে মিছিল থেকে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, আগামী দিন দিল্লি দখল করব, ইন্ডিয়া টিম তা পারবে। তৃণমূল সুপ্রিমোর সেই বার্তাই ভার্চুয়াল বৈঠকে তুলে ধরবেন অভিষেক। আগামী কাল রবিবার সকাল ১১ টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক। এক কথায় সরকার। সেই বৈঠকে তৃণমূল যোগ দিচ্ছে না। পরেরদিন ২১ জুলাই দলের শহিদ দিবস কর্মসূচি। তারই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে তৃণমূল।
২১ জুলাই থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হয়ে চলবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। অধিবেশন চলার মধ্যেই অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাচ্ছেন বিদেশ। ২৪-২৬ জুলাই ব্রিটেন এবং মলদ্বীপ যাবেন মোদি। বাণিজ্য চুক্তি করবেন। সংসদে এবার সরকারকে কোণঠাসা করতে বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ইস্যুর প্রতিবাদে সোচ্চার হবে ইন্ডিয়া জোট। দেশের অন্যত্র একই কায়দায় এসআইআর করা চলবে না বলেই দাবি তোলা হবে। এছাড়া পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার এতদিন পরেও কেন জঙ্গিদের ধরা গেল না? তা নিয়েও সওয়াল চড়াবে বিরোধীরা। চায় চীন নিয়েও আলোচনা। যদিও সরকার কোনওটিতেই রাজি হবে না বলেই জানা গিয়েছে। তাই সংসদের অধিবেশন তো বটেই, আগামী কাল রবিবার সরকারের ডাকা বৈঠকও উত্তপ্ত হতে চলেছে। ফাইল চিত্র