সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের ‘রণসংকল্প’ সভা থেকে জেলার বিজেপি নেতাদের নাম ধরে ধরে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বীরভূম জেলায় বিজেপির যে সব নেতারা রয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভলো। ধ্রুব সাহা (সদ্য অপসারিত বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি) চিটফাণ্ড কেসে অভিযুক্ত। এসটি সেলের প্রাক্তন সভাপতি সুনীল সোরেন একজন মহিলাকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছব ধর্ষণ করে জেলবন্দি ছিলেন। আগের জেলা সভাপতি সন্যাসীচরণ মণ্ডলের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ তুলেছেন খোদ বিজেপির কর্মীরাই। রাজ্য কমিটির সদস্য জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীরা লিখিতভাবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতিকে বলছেন, সিউড়ি, কলকাতা, রাজারহাট, নিউটাউনে প্রচুর সম্পত্তি ও ফ্লাট কিনেছেন। আমি নয়, বিজেপির কর্মীরাই বলছেন।’
বাংলাকে নানাভাবে অসম্মান করার বিষয়েও এদিন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত ছিলেন তৃণমূলের সেনাপতি। তিনি বলেন, ‘বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলছেন, বাংলায় কেউ কথা বললে তাঁকে জেলে ঢুকিয়ে দাও। ওরা রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান জানে না। চারদিন আগে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, রবীন্দ্রনাথ সান্যাল। বাংলার মানুষ জবাব দেবে না? বিবেকানন্দকে অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট বলে ওরা। বাংলার মানুষ, বীরভূমের মানুষ জবাব দেবেন না? এই লড়াই বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই।’ অভিষেক বলেন, ‘এই মাটিতে একাধিক শক্তিপীঠ রয়েছে। শান্তিনিকেতনে গিয়ে কবিগুরুর নাম ফলক থেকে বাদ দিয়েছে। ওরা বাংলার মানুষকে শুধু ভাতে মারতে চায় না, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে চায়। বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বীরভূমের ৩ হাজার ৬০০ বুথ থেকে বাংলা বিরোধীদের ভোকাট্টা করতে হবে।’
এদিন ওই সভা থেকে সিপিএমকেও আক্রমণ করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘সিপিএম আমলে নানুর গণহত্যা ভুলে গেছেন? সিপিএমের সেই হার্মাদগুলি জার্সি পাল্টে এখন বিজেপির দালাল হয়ে বীরভূমের মাটিকে অশান্ত করতে চায়। তৃণমূলের একটা সৈনিক বেঁচে থাকলে, তা করতে দেবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শুধুমাত্র দুয়ারে রেশন, কন্যাশ্রী, যুবশ্রীর মতো জনমুখী প্রকল্প নয়, ১২ লক্ষ মানুষের মাথার উপর ছাদ দিয়েছে। দেওয়ার কথা ছিল মোদি সরকারের। সাধারণ মানুষের উপর দশ পয়সা বাড়তি বোঝা না চাপিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কোষাগার থেকে টাকা দিয়েছে। এই সভা থেকে বাংলা বিরোধীদের বিদায় দেওয়ার শপথ নিতে হবে।’
অভিষেক বলেন, ‘কাল দেখছি, বাংলা সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁকে হিয়ারিং নোটিস পাঠিয়েছে। মহম্মদ সামি, যে বিশ্বকাপ খেলে বিশ্বকাপ জিতেছে, তাঁকেও এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস পাঠিয়ে আনম্যাপ করার চক্রান্ত। যারা বাংলার মানুষকে আনম্যাপ করতে চায়, তাঁদের বাংলা থেকে আনম্যাপ করে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।’