Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে নদীয়ার ফল ১৭-০ করার ডাক দিলেন অভিষেক

শুক্রবার তাহেরপুরের জনসভা থেকে নদীয়ার ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে নদীয়ার ফল ১৭-০ করার ডাক দিলেন অভিষেক
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: শুক্রবার তাহেরপুরের জনসভা থেকে নদীয়ার ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে মতুয়া সমাজের পক্ষে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সুরও চড়ালেন তিনি। রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে সরাসরি আক্রমণ করে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, নদীয়া উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। বিনিময়ে মানুষের সমর্থনই তাঁর ভরসা।

Advertisement

এদিন অভিষেক বলেন, ‘আজ থেকে এই জেলার উন্নয়নের দায়ভার আমার কাঁধে। আপনারা পাশে থাকুন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইটা করুন। এতদিন যাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাঁরা এবার তৃণমূলকে সুযোগ দিন। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার গঠনের সময় নদীয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এবার সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।’
মতুয়া ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুরের উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, ১ লক্ষ মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলেও যাবে, এমন মন্তব্য করে মতুয়া সমাজকে অপমান করছেন বিজেপি নেতারা। মতুয়াদের ভোটে ক্ষমতায় তাঁদেরকেই অসম্মান করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলেই নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে সুর চড়ান তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাঁর স্লোগান, ‘হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নাহলে মোদি-শান্তনু দূর হটো।’ বিজেপি নেতাদের একাংশকে ‘আবর্জনা’ বলে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘কৃষ্ণগঞ্জ থেকে কল্যাণী, হরিণঘাটা থেকে শান্তিপুর—সব জায়গা থেকে এমন নেতাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে বিজেপি বাঙালির মনোবল ভাঙার রাজনীতি করছে। রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের একটি মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে কাঁটাতার থাকবে না। এরাই নাকি আবার অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলে?’  গত নির্বাচনে নদীয়া দক্ষিণে আশানুরূপ ফল না হলেও উন্নয়ন থেমে থাকেনি বলেও দাবি করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, এই জেলার উন্নয়নের কাজ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদ্যোগে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের মাধ্যমে নয়। ফলে, আসন্ন নির্বাচনে মানুষ উন্নয়নের স্বীকৃতি দেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
তাহেরপুরের জনসভা ঘিরে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, নদীয়ার বিধানসভা আসনে ১৭–০ ফলের লক্ষ্য স্থির করে এখন থেকে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। তার প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, অভিষেকের এই ভোকাল টনিকে জেলার ভোট-সমীকরণ কতখানি বদলায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ