নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আগামী ৩ জানুয়ারি জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর সহ একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি বিরোধিতার ঝড় তুলতে জানুয়ারির শুরু থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রচারে নামছেন তিনি। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে বেশকিছু সভার পাশাপাশি মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা তৃণমূল সাংসদের। সভাস্থল এখনও চূড়ান্ত না হলেও তৃণমূল সূত্রে খবর, ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে আসছেন অভিষেক।
এদিকে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জলপাইগুড়িতে এসসি, এসটি ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া রাজ্যের শাসক দল। জেলায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে চারটি এসসি এবং দু’টি এসটি সম্প্রদায়ের প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত। বাকি একটি সাধারণ। ফলে জলপাইগুড়িতে বিধানসভা ভোটে ভালো ফল করতে যে এসসি, এসটি ভোটই মূল ফ্যাক্টর তা বুঝেছে সব দল। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে বৈঠক করে উত্তরের বিভিন্ন বিধানসভায় তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের ভোট নিজেদের ঝুলিতে পুড়তে ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে বিজেপি। কিন্তু পদ্ম পার্টি কোনওভাবেই যাতে এক্ষেত্রে সুবিধা করে উঠতে না পারে, সেজন্য জলপাইগুড়ি জেলায় এসসি এবং এসটি অধ্যুষিত এলাকায় দলের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। সেইসঙ্গে শক্তিশালী সংগঠন নিয়ে ভোটের ময়দানে ঝাঁপাতে ২৯ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে জেলা সমাবেশের ডাক দিয়েছে তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেল। সমাবেশের আগে হবে মিছিল। সরকারি কর্মসূচির মাঝে সময় বের করে আদিবাসী ও তফসিলি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে মানুষের সমস্যা শোনার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন তুলে ধরতে বলা হয়েছে মন্ত্রী বুলুচিক বরাইককে।
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, দলের প্রতিটি শাখা সংগঠনকে এসআইআর বিরোধী সভা করতে বলা হয়েছে। মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে বলা হয়েছে কর্মীদের।তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস বলেন, দলের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেতে বলা হয়েছে। তাঁরা মানুষের ক্ষোভ, বিক্ষোভ ও প্রত্যাশা জেনে সমাধানের চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে বিষয়টি বুথ থেকে ব্লক কিংবা জেলায় জানাতে হবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বুথস্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজার কাজ শেষ হবে। পাড়া বৈঠকে বেশি করে জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কৃষ্ণ বলেন, আগামী এক-দেড়মাসের মধ্যে প্রতিটি বুথে অন্তত পাঁচটি করে সভা করতে বলা হয়েছে।
মালবাজারের বিধায়ক তথা রাজ্যের আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক বলেন, রাজ্য সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে আমরা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছি। অসমের সঙ্গে তুলনা করে আদিবাসীদের বোঝানো হচ্ছে যে, তাঁরা এরাজ্যে কতটা সম্মানের সঙ্গে বাস করছেন।বিজেপির উত্তরবঙ্গের কনভেনর তথা জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বাপী গোস্বামী বলেন, ওদের আদিবাসী মন্ত্রী জেলায় থাকলেও কোনও উন্নয়ন করেননি। আমরা পিছিয়ে পড়া জনজাতিকে নিয়ে সারাবছর কাজ করি। তাদের পাশে থাকি। তারা বিজেপির সঙ্গেই আছে এবং থাকবে।