Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নৃশংস খুনের ঘটনায় সোচ্চার পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব, আজ বরাবাজারে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে অভিষেক

আজ, শুক্রবার বরাবাজারের মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নৃশংস খুনের ঘটনায় সোচ্চার পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব, আজ বরাবাজারে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে অভিষেক
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: আজ, শুক্রবার বরাবাজারের মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারই পুনে থেকে মৃতদেহ বরাবাজারের বাঁধডি গ্রামে আসার কথা রয়েছে। বাংলায় কথা বলার অপরাধে এরাজ্যের একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে খুন হতে হচ্ছে। নৃশংসভাবে এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। মৃতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিতে পুরুলিয়ায় আসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।বরাবাজার ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিশ্বজিৎ মাহাত বলেন, পুনের নৃশংস ঘটনার কথা শোনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদে সরব হন। আজ অভিষেক নিজে বাঁধডিতে সুখেন মাহাতর বাড়িতে আসবেন। তড়িঘড়ি সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ আজই গ্রামে এসে পৌঁছাবে। বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শংকর মাহাত বলেন, সমস্ত মৃত্যুই দুঃখজনক। এরকম ঘটনা কাম্য নয়। কিন্তু, ওকে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে যেতে হল কেন? গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। তৃণমূল ও রাজ্য সরকারকেই জবাব দিতে হবে, কেন ওই শ্রমিককে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যেতে হল। তৃণমূল নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে। মৃত্যুর প্রকৃত তদন্ত হওয়া দরকার।মহারাষ্ট্রের পুনেতে পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই বুধবার গভীর রাতে জেলা তৃণমূলের নেতারা গ্রামে গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানান। বৃহস্পতিবার জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি উজ্জ্বল কুমার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement


জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন বলেন, সুখেনের পরিবারের পাশে রয়েছে তৃণমূল ও রাজ্য সরকার। বিভিন্ন রাজ্যের দেড় কোটির বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বাংলায় কাজ করেন। কিন্তু, তাঁদের উপর অত্যাচার হয় না। কারণ বাংলার সেই সংস্কৃতি নেই। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে নৃশংসভাবে পুরুলিয়ার শ্রমিককে খুন করা হয়েছে। এর আগে মানবাজারের এক আদিবাসী শ্রমিককেও ওড়িশায় একইভাবে খুন করা হয়েছিল। জেলার সংখ্যালঘুদেরও অন্য রাজ্যে অত্যাচার করা হয়েছে। 
বাঘমুণ্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত বলেন, বুধবার রাতেই সুখেনবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলাম। জেলার একজন কুড়মি ছেলেকে যেভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জেলার আদিবাসী, কুড়মি সম্প্রদায় থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের ভিনরাজ্যে হেনস্তা ও খুন করা হচ্ছে। বেছে বেছে বাঙালিদের উপর এই অত্যাচার করছে। জঙ্গলমহলের মানুষকেও তারা ছাড়ছে না। তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত বলেন, বাংলায় যাঁরা কাজ করছেন, বছরের পর বছর তাঁদের সঙ্গে তো ভাইয়ের মতোই আচরণ করা হয়। তাহলে এরাজ্যের মানুষকে বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন এভাবে খুন ও অত্যাচার করা হবে? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ