


সুকান্ত মাহাত, পুরুলিয়া: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০-এর গণ্ডি টপকাবে না। এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার পুরুলিয়ার কাশীপুর বিধানসভার লধুড়কা মাঠের ভিড়ে ঠাসা সভা থেকে তিনি জানান, ‘সবাই সংঘবদ্ধ থাকুন। বাকি লড়াই আমরা লড়ব। ভারতীয় জুমলা পার্টিকে ৫০-এর গণ্ডি পেরতে দেব না। এই কথা দিয়ে গেলাম।’ সেই সঙ্গে এসআইআরে মানুষকে হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। একের পর এক তথ্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে তুলোধনা করেন।
অভিষেক বলেন, বিজেপি নির্বাচনের সময় অনেক টাকা পয়সা ছড়ায়। ওদের টাকা নিয়ে নেবেন। দর করে টাকা নেবেন। এক হাজার দিতে চাইলে ১০ হাজার চাইবেন। পদ্মফুলের থেকে টাকা নেবেন, আর জোড়াফুলে ভোট দেবেন। ব্যালট বক্স খুললে বিজেপি যেন সরষে ফুল দেখে। বিজেপির কাছে ইডি, সিবিআই, বিচাব ব্যবস্থা, টাকা সব আছে। কিন্তু, মানুষ নেই। তৃণমূলের কিছুই না থাকলেও সাধারণ মানুষ আছে।
তৃণমূলের সেকেন্ড ইনকমান্ড আরও বলেন, বিজেপি রিমোট কন্ট্রোলের মতো সাধারণ মানুষকে পরিচালিত করতে চাইছে। যাকে যখন ইচ্ছে এসআইআরের জন্য ডাকছে। ১০ বছর আগে নোট বন্দির নামে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। ১৪০ কোটি মানুষকে লাইনে দাঁড় করাল। কালো টাকা ধ্বংস হবে বলল। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কালো টাকা ধ্বংস হয়েছে?
অভিষেক বলেন, এসআইআর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মামলা করেছিল। পিটিশনার অন্য কেউ নয়। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। এখন শুধু প্রকাশ নয়, পঞ্চায়েত ধরে ধরে ওই তালিকা টাঙাতে হবে। তা হলে জয় কার হল? বাংলার মানুষের জয় হল। ওরা নিজেদের কন্ডিশন অনুযায়ী এসআইআর করতে চেয়েছিল। এখনও এসআইআর করছে। কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষের কন্ডিশন মেনে তা করতে হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ আর বাংলার এটাই পার্থক্য। যতই চেষ্টা করুক মাথা নত করব না। অভিষেক আরও বলেন, বিজেপির যে ক’টা প্রতিনিধি ছাইপাস আবর্জনা পড়ে আছে, ওদের রেখে দিলে আলসার আর বাড়তে দিলে ক্যান্সারে পরিণত হবে। ভোটে জিতে ওরা সাধারণ মানুষের অধিকারের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। বিজেপিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।
ভিনরাজ্যে বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি সন্দেহে এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। মারধর করে জয়শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, বিজেপির নেতারাও তো বাংলায় কথা বলে। ওরাও কি বাংলাদেশি? যারা অপমান করছে, বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিচ্ছে, এই ভোট তাদের শিক্ষা দেওয়ার ভোট। ৮০ দিনের এসআইআরে ১১৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। এই মৃত্যুর দায় কার?