সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ব্রাত্য থাকবেন। হবে না কোনও জনসভা, মিটিং, মিছিল। এমনকী বাঁধা হবে না কোনও মঞ্চও। কুমারগ্রামের জয়ন্তী চা বাগানে তিনি সরাসরি জেলার ৬২টি চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এই প্রথম শ্রমিকদের মুখ থেকেই সরাসরি তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা শুনবেন অভিষেক। শ্রমিকদের জানাবেন এখন পর্যন্ত রাজ্য সরকার তাঁদের জন্য কী কী কাজ করেছে। অর্থাৎ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে জেলার চা বলয়কেই পাখির চোখ করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩ জানুয়ারি জেলায় আসছেন। ওইদিন তিনি জয়ন্তী চা বাগানে সরাসরি চা শ্রমিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় যোগ দেবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চা শ্রমিকদের সঙ্গে একেবারে সরাসরি কথা বলবেন। এটা আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে বড় পাওনা।
আলিপুরদুয়ার জেলায় পাঁচটি বিধানসভা আসনের মধ্যে তিনটি এসটি, একটি এসসি ও একটি সাধারণের জন্য সংরক্ষিত। ফলে চা বলয় আলিপুরদুয়ারে যে এসটি এসসি ভোটব্যাংকই ফ্যাক্টর, তার জন্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আর ছাব্বিশের ভোটে এই ভোটব্যাংকে গেরুয়া শিবির যাতে কোনওভাবেই ভাগ বসাতে না পারে সেটাকেই পাখির চোখ করেছে রাজ্যের শাসক দল। এই ফ্যাক্টরকে অভিমুখ করেই ঝাঁপাচ্ছে রাজ্যের জোড়াফুল শিবির।
উনিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি আলিপুরদুয়ারে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে জিতেছিল। একুশের বিধানসভা ভোটে পাঁচটি আসনেই জিতেছে বিজেপি। তবে চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি জিতলেও ভোটের মার্জিন ৭৬ হাজারে নেমে এসেছে। তখন থেকেই তৃণমূল চা বলয়ে ঘর গোছাতে শুরু করে। তৃণমূল তারই ফল পায় গত বছরের নভেম্বরে মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনে। সেখানে তৃণমূল বিজেপিকে ২৮ হাজার ভোটে হারিয়ে দেয়।
জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করে পদ্মফুল ছেড়ে চা শ্রমিকরা এখন জোড়াফুল শিবিরের দিকে ঝুঁকছে। চা বলয়ে দলের এই ফিলগুড আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চা শ্রমিকদের কী বার্তা দেন দলীয় নেতা-কর্মীরা এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন।
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক জেলা পরিষদের মেন্টর মৃদুল গোস্বামী বলেন, ৬২টি চা বাগানে আমাদের চা শ্রমিক সংগঠনের শক্তিশালী ইউনিট কমিটি কাজ করছে। রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প চালু করেছে। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন চা শ্রমিকরা সেদিকেই তাকিয়ে আছে।