মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: গাজোল কলেজ মাঠে তৃণমূলের বিরাট সভামঞ্চে দিদির হাত ধরে নেচে আপ্লুত জেলার আরতি, সজলির মতো প্রত্যন্ত গ্রামের বধূরা। শুধু তাঁরা নয়, ওই মঞ্চে আরও ১০ জনের বেশি আদিবাসী মহিলা তাঁদের সঙ্গ দিয়েছিলেন। নাচের পর স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে বেশকিছুক্ষণ ধামসা, মাদল বাজান। আদিবাসী নৃত্য করা মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রত্যেকের সামনে হাতজোড় করে নমস্কার করতেও দেখা যায় তাঁকে।
হবিবপুরের আরতি হাঁসদা এবং সজলি হেমব্রমের কথায়, আমরা সাধারণ মহিলা। এদিন দিদি আমাদের আদিবাসী সংস্কৃতির শাড়ি পড়া দেখেও প্রশংসা করেছেন। কয়েক বছর ধরে জেলার বিভিন্ন জায়গায় আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন করে আসছি। মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান হলে আমাদের ডাকা হয়। এদিন দিদির হাত ধরে নেচে খুব ভালো লেগেছে।
বাস্কে নামে আরও এক মহিলা বলেন, দিদি এমনভাবে আমাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন এলাকার চেনা কোনও মানুষ।
তৃণমূল এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ২৫ জনের বেশি আদিবাসী মহিলা এবং পুরুষ সদস্যদের নৃত্যের দল অংশ নিয়েছিল। তাঁদের বাড়ি হবিবপুর এবং গাজোল ব্লকের আলাল, আকতৈল, শাহজাদপুর সহ বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা অনেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এর পাশাপাশি আদিবাসী নৃত্যের প্রতিভাও রয়েছে। রাজ্য সরকার থেকে শিল্পী কার্ড করে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা নির্দিষ্ট ভাতাও পান। এছাড়া বাইরে কোনও অনুষ্ঠান করলে উদ্যোক্তাদের তরফ থেকেও সাম্মানিক দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে ওই শিল্পীরা দল বেঁধে গ্রাম থেকে সভাস্থলে চলে আসেন। দুপুরে কলেজ গেটের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণ করে। সেই সময় মহিলারা আদিবাসী সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সভা শেষে তৃণমূলের তরফে নৃত্যের দলের একাংশ মহিলাকে মঞ্চ নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মাথায় ছিল কলসি। মমতার সঙ্গে তাঁরা কয়েক মিনিট নৃত্য পরিবেশন করেন।
তৃণমূলনেত্র্রী বলেন, আদিবাসী ভাইবোনদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আসতেই তাঁরা সুন্দর সবুজ উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানিয়েছেন। জয় জোহার বলে তাঁদের সুস্থতা কামনা করেছি। • নিজস্ব চিত্র।