Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধার জালিয়াতি: গায়েব মূল অভিযুক্তর পরিবার

মুম্বই, রাজস্থান ও তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্যের আইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে আধার কার্ড সংক্রান্ত একাধিক কাজ চলছিল মালদহের চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়।

আধার জালিয়াতি: গায়েব মূল অভিযুক্তর পরিবার
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: মুম্বই, রাজস্থান ও তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্যের আইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে আধার কার্ড সংক্রান্ত একাধিক কাজ চলছিল মালদহের চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। অভিযোগ, আধার কার্ডের যাবতীয় কাজে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে এই জালিয়াতি চক্র সক্রিয় ছিল এলাকায় বলে অভিযোগ। কীভাবে অন্যের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেটিও জানার চেষ্টা করছে পুলিস। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চাঁচল থানার পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মোস্তফা আব্দুল ওয়াহেদ চাঁচল থানার সূতি গ্রামের বাসিন্দা। আরেক ধৃত মহম্মদ আজম হরিশ্চন্দ্রপুর থানার উত্তর রামপুরে থাকত। ছ’দিন আগে প্রথমে বাড়ি থেকে সূতির মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ল্যাপটপ, আইবল স্ক্যানার, কিবোর্ড, প্রিন্টার ও একাধিক আধারের রিসিভ কপি বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। আদালতের নির্দেশে মোস্তফাকে পাঁচদিনের হেফাজতে নিয়ে জেরা করেন তদন্তকারীরা। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬ দিনের জন্য জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। মোস্তফাকে জেরা করেই রবিবার রাতে আজমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। আদালতের নির্দেশে সে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতে রয়েছে। তাকে এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিস। তবে, আজমকে গ্রেপ্তারের আগেই তার পরিবারের সদস্যরা আধার তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে তার বাড়ি তালাবন্দি রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। 

Advertisement

পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালেই এমন আধার তৈরির অবৈধ চক্র চালাত আজম। এদিকে এদিন আদালতের বাইরে ধৃত মোস্তফার বাবা জামিল আক্তার বলেন, চক্রান্ত করে ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। আজমের দু’জন এজেন্ট নিয়মিত সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন ছেলের সিএসপি সেন্টারে আসত। আধার তৈরি ও সংশোধনের কাজ করত। সেই কাজের জন্য ৩০০ টাকা করে নেওয়া হলেও ছেলেকে কম্পিউটার চার্জ ও অন্যান্য খরচের জন্য মাত্র ২৫ টাকা করে দেওয়া হতো।
চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি আধারের মূল কেন্দ্র ইউআইডি সেন্টারে জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে সাইবার পুলিসের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
এদিকে এমন ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু অভিযোগ করে বলেন, এমন চক্রের ফলেই দেশে অনুপ্রবেশ বাড়ছে। অন্য দেশের নাগরিকরা এভাবে ভারতের নথি পেয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে। এই রাজ্যে অবৈধ কাজের কারখানা তৈরি হয়েছে, অথচ রাজ্য সরকারের নজরে আসছে না।
পাল্টা মালদহ জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বকসি বলেন, পুলিস নিরপেক্ষ তদন্ত করছে। কিন্তু এখানে রাজনীতি করা ঠিক নয়। আধার কার্ডের পুরো সিস্টেমটাই তো কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে। • ধৃত মহম্মদ আজম - 
নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ